প্রকৌশলী রাহাতের নিখোঁজের খবরে দিশেহারা পরিবার

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ০০:৫৯
 
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও প্রকৌশলী রাহাতের পরিবারের স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ১৮ জুন নিখোঁজের একমাস পর একদিকে র্যাবের তালিকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে তার নাম, আরেকদিকে ভবন নির্মাণ তদারকি কাজে বিরোধ, অন্যদিকে কথিত মুক্তিপণের দাবি নিয়ে পরিবার পড়েছে গোলকধাঁধায়। আগামী মাসে রাহাতের স্ত্রীর প্রথম সন্তান জন্মগ্রহণ করার কথা। একবছর আগে রাহাত মাগুরা জেলার  শালিখা থানার সরশোলা গ্রামের রেহেনা খাতুনকে পরিবারের পছন্দে বিয়ে করেন। রেহেনা যশোর সিটি কলেজের ছাত্রী।
 
রাহাতবিন আব্দুল্লাহর পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরের শেখহাটি বাবলাতলায়। তার বাবা শেখ আব্দুল্লাহ বিন আকবর যশোর পুলিশ লাইন স্কুলের সহকারী শিক্ষক। এই স্কুল থেকে রাহাত ২০০৭ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০১১ সালে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। পরে তিনি ঢাকার ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। পাশাপাশি চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের নির্মাণ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। এখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
 
রাহাতের বাবা শেখ আব্দুল্লাহ বিন আকবর ইত্তেফাককে জানান, ‘কর্মস্থল থেকে দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলতে রাহাত চলে যান বলে তাদের জানান হয়েছে। কিন্তু এটা সত্যি না সাজান জানি না। আর ওইদিনই থানায় মালিকের লোকেরা জিডি করল কেন? জিডি তো করব আমরা।’ তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানায় জিডির সূত্র ধরে আমরা র্যাব-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। মোহাম্মদপুর থানা থেকে যশোরের ডিবিতে চিঠি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে গুলশানের ঘটনায় সেটা ধামাচাপা পড়ে যায়। র্যাব যেদিন তালিকা প্রকাশ করে, সেদিন খুলনার র্যাব থেকে এবং গত বৃহস্পতিবার যশোরের ডিএসবি থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা রাহাতের ছবি, জন্ম নিবন্ধন এবং আমার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কপি নিয়ে গেছে।’ ফেসবুকে সরকারবিরোধী বা জঙ্গি সংক্রান্ত কিছু পাওয়া গেছে কিনা আমি জানি না। আমি চাই প্রশাসন কিছু একটা বলুক। অন্যায় করলে তার যে সাজা প্রাপ্য সেটা সে পাক।’ রাহাতের বাবা দাবি করেন, ছেলের কর্মস্থলের লোকদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। আবার ৮ ডিজিটের একটি নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।
 

ফেসবুক জুড়ে ধর্মীয় পোস্ট:এদিকে রাহাতের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা গেছে- তা ধর্মীয় পোস্টে ভরা।  ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর ৩০ জনকে ট্যাগ করে তিনি ‘গার্ল ফ্রেন্ড’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে লেখা ছিল ‘এ মাস্ট ওয়াচিং বাংলা ইসলামিক শর্ট ফিল্ম।’ এই শর্ট ফিল্মে জাকির নায়েকের বক্তব্য আছে। নিখোঁজের আগের দিন তিনি প্রোফাইল পিকচার আপডেট করেন এবং একটি শিশুর কান্নার ছবি দেন। ৩ জুন তিনি প্রোফাইল কভারে হাতের লেখা (সম্ভবত নিজের) একটি কবিতা দেন। কবিতাটি হচ্ছে : ‘আকাশের ওপারে একটা বাড়ী আছে/ লাল নীল হীরার বাড়ী।/ আকাশের ওপারে আমার সাথী আছে/ জানতেও চাই না সে কেমন/ আকাশের ওপারে আমার রব আছে/ তার জন্যই এই অশ্রুসিক্ত অপেক্ষা। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। ফর এভরিথিং।’