কেসিসি : ৪৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৬, ১৫:২০
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৪৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। 
 
এর মধ্যে সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। 
 
সোমবার দুপুর খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাস এ বাজেট ঘোষণা করেন।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৩০২ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করেন; যার মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৭১ শতাংশ। 
 
প্রস্তাবিত বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এ বাজেটে নতুন কোন কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌর কর আদায়, নবনির্মিত স্থাপনার ওপর হালনাগাদ কর ধার্য, এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণ করা হবে। 
 
যেমন পূর্বে রোলার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া ঠিকাদারের যাবতীয় মালামালের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য নগর ভবনের পিছনে নিচতলায় টেস্টিং ল্যাব নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ ল্যাব টেস্টের ফি থেকে আয় বৃদ্ধি পাবে। 
 
তিনি ঘোষিত বাজেটকে উন্নয়নমুখী আখ্যায়িত করে বলেন, এই বাজেটে ভৌত অবকাঠামো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন সাধিত হবে। এ বাজেটে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মান উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বাজেটে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, পার্ক, মসজিদ, মন্দির ও কেসিসির বিভিন্ন দফতর আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনাসহ সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। 
 
এছাড়া নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া এ বাজেটে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বলেন, কেসিসির নিজস্ব আয় অপ্রতুল হওয়া সত্ত্বেও অফিস পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে রাজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক খাতে ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। উক্ত থোক বরাদ্দ হতে পূর্ত খাতে ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ভেটেরিনারি খাতে ২৫ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্যখাতে ৭ কোটি ১২ লাখ টাকা, কঞ্জারভেন্সি ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ও নগরীতে বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
 
২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসির একটি অনুমোদিত প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পটিতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার  কেসিসির বিভিন্ন রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে  ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেন। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে এই প্রকল্পটি চার বছর মেয়াদী। প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার দ্বারা নগরীর ওয়ার্ডের রাস্তা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে এবং চলছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই প্রকল্পে উক্ত ৫০ কোটি পাওয়া যাবে। 
 
আনিছুর রহমান বিশ্বাস বলেন, খুলনা মহানগরীকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা সরকারের পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিপি), জার্মান ডেভেলপনমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাসহ (ফাও) বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তারা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। বর্তমানে দাতা সংস্থার ১০টি অনুমোদিত প্রকল্পে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 
 
প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল আরবান পোভার্টি রিডাকশন প্রোগ্রাম (এনইউপিআরপি), বাংলাদেশ মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রকল্প,আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, সহায়তাপুষ্ট নগরাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, নিরাপদ পথ খাবার উন্নয়ন কর্মসূচি, বাংলাদেশ দক্ষিণ অঞ্চল শহর কেন্দ্রের দারিদ্রবান্ধব ও বাজারভিত্তিক মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, আরবান ম্যানেজমেন্ট অব ইন্টারনাল মাইগ্রেশন ডিউ টু ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রভৃতি।
 
ভারপ্রাপ্ত মেয়র কেসিসির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেয়ার বিষয় নগরবাসীর সর্বাত্মক সহায়তা ও নগরবাসীর প্রতি নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করার আহবান জানিয়ে বলেন, খুলনা মহানগরীকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর একটি নগরীতে পরিনত করতে আমাদের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টার কোন ঘাটতি নেই। যে কোন উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা ও অর্থের। 
 
প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সম্ভব না হলে সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। অর্থ সংস্থানের জন্য একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেসিসি শুধুমাত্র সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। এজন্য নিজের আয়ের উপর ভর করে দাঁড়াতে হবে। এটা আজ সময়ের দাবী। এজন্য প্রয়োজন সকল শ্রেণীর নাগরিকের পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতা। 
 
বাজেট সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ গাউসুল আযম। উপস্থিত ছিলেন কেসিসির সাবেক মেয়র সিরাজুল ইসলাম, কাজী আমিনুল হক, খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল কাইয়ুম, কেসিসির প্যানেল মেয়রবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ।