চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও আলাতুলি এলাকায় পদ্মার ভাঙনে ঘর-বাড়ি বিলীন হচ্ছে। চরম হুমকিতে পড়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্যান্য স্থাপনাসহ রোডপাড়া, মালবাগডাঙ্গা ও গোয়ালডুবি গ্রাম।
জুন মাসের শেষ দিক থেকে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি এলাকা থেকে রোডপাড়া এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। সদর ও শিবগঞ্জ রক্ষা প্রকল্পের শেষ মাথা থেকে এই ভাঙন শুরু হয়ে ভারতীয় সীমানা বরাবর নাড়ুখাটি পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মিব্যাপী ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পার্শ্ববর্তী স্থানে কোনো রকমে বসবাস করছেন। অপরদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের পরবর্তী অংশে ৩০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল আলম জানান, বর্তমানে সাড়ে ৬ কি.মি দৈর্ঘ্যের পদ্মা নদীতে আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরপরের অংশে সুলতানগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭৮০ মিটারব্যাপী এবারের নদী ভাঙনে প্রায় ৩০টি মাটির বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চরবাগডাঙ্গার ভাঙনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কোনো খবর তিনি পাননি। তবে তিনি জানান, গত বছর গোয়ালডুবি এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়ার পর ৮৬ কোটি টাকার প্রায় সোয়া দুই কি.মি নদী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি পাস হয়নি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়। বর্তমানে আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গার পদ্মা নদীর এই ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
