দুর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভে অচল হাইতি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮

দুর্নীতি বিরোধী হরতালের কারণে হাইতিতে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশটিতে টানা চতুর্থদিনের মতো দুর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। এ সময় হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজের পদত্যাগ দাবি করা হয়। এদিকে জোভেনেল তার বৈধতার কথা পুনরায় উল্লেখ করে বুধবার রাতে টেলিভিশনে এক ভাষণে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ও হরতালের পর তিনি এই আহ্বান জানান।

বুধবার ওই হরতালে সাড়া দিয়ে হাইতির স্কুল, অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস বন্ধ ছিল। এর আগে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভ ও মোইজে জনসাধারণের সামনে না আসায় দেশটিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। মোইজে বলেন, আমার পাঁচ বছরের শাসনামলে একজন— আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি— একজন ব্যক্তিও দেশের স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারেনি।

সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে দেওয়া ভাষণে তিনি আরো বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আলোচনা করতে হবে। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সংবিধান অনুযায়ী দেশের আইনের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। মোইজে ২০১৭ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছয় মিনিটের এই ভাষণকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেন-হেনরি সিয়েন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ তার পাশে ছিলেন।

রবিবার বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে মোইজে জনসম্মুখে আসেননি বা এ ব্যাপারে কিছু জানাননি। মঙ্গলবার তার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েকঘণ্টা পর তিনি জনগণের সামনে এলেন। আর এর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিরোধী দল জানিয়েছে, বিক্ষোভে ইতোমধ্যে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ সংকট সমাধানের জন্য প্রেসিডেন্টকে অপসারণের উপায় প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতি। দেশটির অধিবাসীরা এখনো একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও এক বছর আগের কলেরার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পাশাপাশি দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।