তুরাগ নদের উভয় তীর দখল মুক্ত করতে অভিযানের ২১ তম দিন বিআইডব্লিউটিএ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের জহুরাবাদ পালপাড়া ও কাউন্দিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এ সময় দুটি তিনতলা ভবন, সাতটি দোতলা, ২৩টি এক তলা, ৩৮টি আধাপাকা এবং ১০৩টি টিনের ঘরসহ মোট ১৭৩টি স্থপনা এবং এক একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা বন্দর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন। মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় সংস্থাটির পরবর্তী অভিযান আগামী ২৫, ২৭ ও ২৮ মার্চ পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাজধানীর মিরপুর জহুরাবাদ ও সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনতলা একটি, দোতলা ১১টি, একতলা ২৩টি ভবন, পাকা স্থাপনা ৩৫টি ও টিনশেড ১২২টিসহ মোট ১৮৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ওই দিন বেলা ১১টায় সাভারের কাউন্দিয়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় বিআইডব্লিউটিএর কর্মীকে চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান শান্ত মারধর করেন। উচ্ছেদকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান চেয়ারম্যানকে আটক করার নির্দেশ দেয়। পরে দুপুর ১২টায় মুচলেকা নিয়ে আতিকুর রহমান শান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা বন্দর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, কোনো প্রভাবশালী মহল এ উচ্ছেদ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এ সময় বালু মহলের বালু ও অন্যান্য সামগ্রী নিলাম দিয়ে আয়কর ও ভ্যাটসহ মাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র তুরাগ ও বালু নদের দুই পাড় দখল মুক্ত করতে আরো দেড় মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বন্দর পরিচালক শফিকুল হক।
গত মঙ্গলবার তুরাগে ৩১৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে ২০তম দিনে মোট ২ হাজার ৬৮৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে একটি মসজিদ উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে মসজিদগুলো নিজ খরচে সরকারি জায়গায় স্থানান্তর করা হবে।
