সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৪:৩১
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার বিপদ সীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল ও সদর ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের সামনে পুরাতন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে পড়েছে । বসতঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠায় সারিয়াকান্দি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার  লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে। বন্যা কবলিত  এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট ও পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।
 
চালুয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস সরকার জানান, পানি বৃদ্ধি ও স্রোতে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, পাঁচটি ব্রিজ, চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি আশ্রয়ন ও একটি  গুচ্ছ গ্রাম  প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩টি মেডিকেল টিম ও  পাঁচটি অস্থায়ী টিম বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সারোয়ার আলম জানান,  উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ৮৭টি গ্রামের ১৯ হাজার ৮৫০টি পরিবারের  লক্ষাধিক  মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার ১২ জন কৃষক পরিবারের  ১৭ শ ২০ হেক্টর পাট, এক হাজার ৪৭০ হেক্টর আউশ, এক হাজার ২১৫ হেক্টর রোপা আমন, এক শ পাঁচ হেক্টর বীজতলা ও ২৩ হেক্টর জমির সবজি ফসলসহ চার হাজার ৫৩৩ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে হয়েছে। 
 
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে ছয়টি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা ও  ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে।