উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যেন মানুষের ক্ষতি না হয় :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:৪০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের জীবন ও জীবিকা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, উন্নয়নটা যেন মানুষের জন্যই হয়। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এমনভাবে গ্রহণ করুন, যাতে জনগণ এর কারণে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অনেক সময় দেখা যায়, প্রকল্প করতে গিয়ে মানুষের জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে তারা যেন সময়মতো জমির যথাযথ মূল্য পায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম (এমআইডিআই) প্রকল্পের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম। কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী নিয়ে বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। জাপানের সহায়তায় মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এই পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও হচ্ছে সেখানে। শেখ হাসিনা বলেন, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হলে কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, একটা সময়ে কক্সবাজারে কিছুই ছিল না। পুরো কক্সবাজারে লবণ ও পান চাষ করত। কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কক্সবাজারের জনগণের মতামত নিয়েই উন্নয়ন কাজ চলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহত্ অখণ্ড সমুদ্রতটের অবস্থান এখানেই রয়েছে। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে এবং একইসঙ্গে এটাকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রেলযোগাযোগ স্থাপনের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যেখানে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জেলার মাতারবাড়িসহ চর এলাকাতে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান, চীন, ভারত এবং কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই মাতারবাড়িতে তাদের বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদান কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের জন্য একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেছি।   

১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর ২ কোটি

৭ লাখ টাকা অনুদান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিত্সা ও জীবনযাপনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১০ জনকে মোট ২ কোটি ৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার কার্যালয়ে অনুদানকৃত চেকগুলো ১০ জনের কাছে হস্তান্তর করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সেই সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত এক ব্যক্তি এসব চেক গ্রহণ করেন।

ধানের উত্পাদন বৃদ্ধিতে ইরি

ও ব্রি’র মধ্যে সহযোগিতা

জোরদারের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ধানের উত্পাদন আরো বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-র মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ইরি’র মহাপরিচালক ড. ম্যাথেও মোরেল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ধানের উত্পাদন আরো বাড়াতে ইরি এবং ব্রি’র মধ্যে তাদের সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইরি এবং ব্রি’র মধ্যে বর্তমানে বিরাজমান সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগ ও চীনের

কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বাসস জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) দুই দলের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সফররত সিপিসি’র আন্তর্জাতিক বিভাগ সংক্রান্ত মন্ত্রী সং তাও এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বৈঠকের পরে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ এবং সং তাও নিজ নিজ দলের পক্ষে এই স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

 বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতা উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশ এবং দুটি দলের মধ্যে সম্পর্ক এবং সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘বাস্তচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ এর উত্তরে সং তাও তাঁর দেশের সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য চীন এ ব্যাপারে কাজ করছে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে।