ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় গত কয়েকদিনে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে উপজেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বন্যার পানি বিপদ সীমার ৯৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় দ্রুত সেগুলো মেরাত করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম জানায়, চরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে পানি উঠে যাওয়ার পাশাপশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে ঝুঁকি থাকায় বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের হুকুম আলী চোকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে যে কোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
উপজেলার চর হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমীর হোসেন খান জানান, তার ইউনিয়নটি প্রায় ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে তিন হাজারেরও বেশি পরিবার কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কাছে পৌঁছায়নি সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা। তাই বন্যার্তদের জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা ঘুরে জানা যায়, পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে এখনও পৌঁছায়নি কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা।
পানিবন্দি পরিবারে সাহায্য সহযোগিতার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা সিদ্দিকা বলেন, ইতিমধ্যে নদীভাঙ্গা ৩৪ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার সদর ইউনিয়নের দুই শত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে পানিবন্দি প্রতিটি দুস্থ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবে।
