গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২শ’ মিটার ধসে কমপক্ষে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী গজারিয়া, কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া, সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ও বোয়ালী ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ছে। গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল পানির স্রোতে হাজিরহাট এলাকার পূর্ব পাশের একটি ব্রিজ ভেঙে গেছে।
অপরদিকে বন্যার পানির তোড়ে ফুলছড়ি উপজেলার চন্দ্রনস্বর গুচ্ছ গ্রামটি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বন্যা কবলিত গৃহহীন পরিবারগুলো ফুলছড়ি উপজেলা খাটিয়ামারির চরের চন্দনস্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
IMG0
অপরদিকে, কয়েকদিন ধরে গাইবান্ধার নদ-নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। এতে গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী। বর্নাত্য মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানির চাপ বেড়ে যায়। এতে সিংড়িয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধটির ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরো জানান, ঘাঘটের পানি ৯ সে.মি কমে বিপৎসীমার ৬১ ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১২ সে.মি কমে বিপৎসীমার ৭৮ সে মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, গাইবান্ধার বন্যা কবলিত এলাকায় ১২০টি মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করছে।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শামসুল আজম বলেন, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি থাকায় অতিরিক্ত ত্রাণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
