লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের ছয়টি চরাঞ্চলে নিন্মচাপের প্রভাবে টানাবৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৬ জুলাই হতে ঐ চরের অন্তত ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
জোয়ারের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, অনেক বসতবাড়ী ও দুইটি স্কুল ডুবে গেছে। এতে টুনুরচরসহ অনেকস্থানে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অনেকেই। রীতিমতো দৈনিক দুইবার জোয়ার আসায় অনেক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।
বেড়িবাঁধ না থাকায় ও নদীর ভয়াবহ ভাঙনে রাস্তা-ঘাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে উপজেলার ৮নং দক্ষিণ ও ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন এবং চরআবাবিল ইউনিয়নের চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের (সিআইপি) বেড়িবাঁধের বাইরে টুনুরচর, চরকাছিয়া, চরঘাসিয়া, চরইন্দুরিয়া, চরলক্ষ্মী, কানিবগার চর ও চরআবাবিল গ্রামের জোয়ারের পানি ঢুকেছে। বর্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসর চরের অনেক কৃষক ও দিনমজুর পরিবারগুলো স্থানীয় আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
সিআইপির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ শওকত আলী জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নদীতে পানি বৃদ্ধি রয়েছে। প্রকল্পের ভিতরে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রায়পুরের ১নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ছালে মিন্টু ফরাজি জানান, তার ইউনিয়নসহ আরও দুইটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ জোয়ারের কাছে অসহায়। দুইটি স্কুল ভবনে পানি উঠে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আলম বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আজই ঐ অঞ্চলগুলো পরির্দশন করে সহযোগিতা করার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
