মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস।
সোমবার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে মিলের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় সাড়ে তিন শ শ্রমিক। পরে তারা সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের হুমকি দেয়া হলেও দাবিতে অটল রয়েছে শ্রমিকরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, তাদের দিনপ্রতি ১২০ টাকা মজুরি দেয়া হয়। এ নিয়ে গত এক বছর ধরে মিল কর্তৃপক্ষের কাছে মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু তাদের কথায় কর্ণপাত করছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এতে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে তারা।
শ্রমিকরা আরো জানান, সকালে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার জন্য পুলিশ তাদের হুমকি দেয়। কিন্তু তারা দাবিতে অটল থাকলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের বাড়ি খুঁজে খুঁজে তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হবে।
মিল শ্রমিক পবিত্র মন্ডল জানান, দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করে তারা ১২০ টাকা মজুরি পান। এতে যাওয়া-আসার খরচ বাদ দিয়ে তিনবেলা ভাতও জোটে না তাদের।
শ্রমিক জাকির হোসেন জানান, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সব সময় অবিচার করে। বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের কর্মঘণ্ট কেটে নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।
শ্রমিক নেত্রী রেক্সনা বলেন, ‘সারাদেশে কোথাও এতো কম মজুরি নেই। আমরা মাস শেষে ২৫ শ থেকে তিন হাজার টাকা বেতন পাই। তাতে ঘর ভাড়াই ওঠে না। দুই মুটো ভাত না পেলে কাজ করবো কেন।’
তিনি বলেন, ‘বেতন ন্যূনতম দৈনিক ৩০০ টাকা করা না হলে মিল অচল করে দেয়া হবে। আগামী তিনদিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন।’
এদিকে, সকালে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের ব্যবস্থাপক আবু হানিফ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে গিয়ে বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। শ্রমিকরা তা না শুনে আন্দোলন চালাতে থাকেন।
সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের ব্যবস্থাপক আবু হানিফ বলেন, মিলটি চলছে সার্ভিস চার্জ ভিত্তিতে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি বৃদ্ধির দাবি উঠছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপর থেকে সিদ্ধান্ত আসলে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।’
