কন্যা সন্তানের জন্ম হলে নাকি বাবা বেশি খুশি হন। বাবার জন্য মেয়েদের টানও নাকি বেশি থাকে। কন্যার জন্ম হলো ঠিকই। তবে বাবা খুশি হতে পারলেন না। অভাগা মেয়েও বাবাকে দেখলেন না। দেখবেন না কোনো দিনও। কেননা বাবা যে আর পৃথিবীতে নেই। এই হতভাগ্য কন্যার বাবা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম। গতমাসে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন তিনি। রবিবার রাতে সাভারের একটি হাসপাতালে রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা এই কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
নিহত রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, চাচা হয়েছি। আনন্দ অন্যরকম। আবার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটি কোনো দিন বাবার মুখ দেখতে পারবে না। সেটা মনে করে বেদনায় চাপা পড়ে যাচ্ছে সেই আনন্দ। তিনি বলেন, আজকে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন রবিউল। কিন্তু বাবা হওয়ার আগেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন!
সন্তান জন্মের পর উম্মে সালমা বলেন, দেশের জন্য আমার স্বামী আত্মত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। কারণ আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি। আমার সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছে। আমার শাশুড়ি তার ছেলেকে হারিয়েছে। এই অভাবগুলো পূরণ হওয়ার নয়। তিনি বলেন, আমার যে সন্তান আজ পৃথিবীতে এসেছে তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে।
সোমবার সকালে অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়ায় রবিবার রাতেই উম্মে সালমাকে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডা. কামরুন্নেচ্ছার নেতৃত্বে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলে পৃথিবীর আলো দেখেন রবিউল করিমের কন্যা।
এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহীন আক্তার জানান, শিশুটির শরীরের ত্বকে কিছু সমস্যা রয়েছে। চিকিত্সা দিলে সুস্থ হয়ে উঠবে। ফলে মাকে পোস্ট অপারেটিভ বেডে আর কন্যাকে রাখা হয়েছে শিশু নিবিড় পরিচর্যা (এনআইসিইউ) বিভাগে।
রবিউল করিমের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিবাড়ি গ্রামে।
