রাজারহাটে নদী ভাঙনে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি বিলীন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৬, ০২:১৪
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পানি কমে যাওয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি’র চর গতিয়াসাম, নাখেন্দা এলাকার শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন কবলিত ওই পরিবারগুলো পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
 
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ৩ দিনে নদী ভাঙন ও পানিবন্দী দু’হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. কে. কে. পাল জানান, উপজেলায় বন্যা দুর্গত ২ হাজার ৩৮১টি পরিবারকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী যে কোনো ধরনের রোগ-ব্যাধি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধপত্র মজুদ রয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার পর্যন্ত ভাঙন কবলিত এবং পানিবন্দী ৪টি ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার  এবং প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চালসহ এ পর্যন্ত ২০ মে. টন চাল ও ২৫ হাজার ৫০০ টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখনো ২০ মে. টন চাল এবং ৮০ হাজার টাকা মজুদ রাখা হয়েছে।
 
এদিকে তিস্তা ও ধরলার ভাঙন ও বন্যায় পানিবন্দী ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, খাবারসহ গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
 
অপরদিকে পানিবন্দী ওইসব এলাকায় রোপা-আমনের বীজতলা, সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গিয়ে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ষষ্টী চন্দ্র রায় বলেন, বন্যায় পানি আটকে গিয়ে প্রায় ১০ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা এবং ৪-৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যা কৃষকরা সহজেই পুষিয়ে নিতে পারবে।