মুরাদনগরে জাল টাকা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা, ৪ পুলিশ অবরুদ্ধ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৬, ১২:৪২
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে জাল টাকা রেখে পুলিশ দোকানীকে ফাসাঁনোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতা বাঙ্গরা থানার এএসআইসহ চার পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট, টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় লাঠি চার্জও করে পুলিশ।  নারী-পুরুষসহ এ সময় আটজন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশসহ আহত হয় প্রায় ৩০ জন।
 
সোমবার সকাল ১০ টায় জাল টাকা উদ্ধারের নামে সাদা পোশাকে অভিযানের গিয়ে পুলিশ এ কাণ্ড ঘটনায় বলে অভিযোগ উঠে। অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যরা হলেন, এএসআই মোসলেম, কনস্টেবল করিম, জামাল ও জামাল। গুলিবিদ্ধরা হলেন, শিশু সৌরভ (৫), ছালমা (৪০), হাবিব (৪৫), ফরহাদ (৩৫), মাসু বেগম (৫৫), নসু মিয়া (২৫), হবি মিয়া (৪৫) ও লিল মিয়া (৫০)।
 
সোমবার দুপুরে বাঙ্গরা থানা ও মিরপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাল টাকাসহ অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এরপর সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে জাল টাকার ব্যবসার অভিযোগে দোকান মালিক সোহেলসহ দুইজনকে ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দুই শ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন।
 
হায়দরাবাদ বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজন জানায়, সোমবার সকাল ১০ টার দিকে বাঙ্গরা থানার এএসআই মোসলেমসহ চার পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে হায়দরাবাদের বাদামতলী বাজারে জাল টাকা উদ্ধার অভিযানে যায়। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জামিলা ভ্যারাইটিজ দোকানের মালিক মো. সোহেল মিয়ার দোকানে জাল টাকা রয়েছে বলে অভিযোগ করে তাকে আটকের চেষ্টা চালায়। এর আগেও দোকানে জালটাকা ঢুকিয়ে সোহেলকে ফাঁসানের চেষ্টা করেছে একটি মহল।
 
ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার বলেন, ‘এএসআই মোসলেম সঙ্গে করে দুই লাখ টাকার জাল নোট নিয়ে এসে তার দোকানে ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে বাজারের ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় লোকজন ওই পুলিশ সদস্যদেরকে ঘিরে ফেলে। পরে ক্ষুব্ধ এলাকার লোকজন চার পুলিশ সদস্যকে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। আর একজন পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে বাঙ্গরা থানা ও মিরপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে শতাধিক রাবার বুলেট, টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’
 
এদিকে হায়দরাবাদ এলাকার লোকজন চক্রান্তকারী পুলিশ সদস্যরা কার ইন্দনে ওই ব্যবসায়ীকে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছে।
 
সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর বি-সার্কেল) ইকবাল হোসেন হাজারী বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে হায়দরাবাদ বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল টাকার একটি চালান এসেছে এমন খবরে বাঙ্গরা থানার এএসআই মোসলেমসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় বাজারের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মিয়ার দোকান থেকে দুই লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে তাকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ওই পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সদস্যদেরকে উদ্ধার করে। ’
 
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হায়দরাবাদ গ্রামে জাল টাকা উদ্ধারের অভিযানে গেলে কিছু দুষ্কৃতিকারী চার পুলিশ সদস্যকে আহত করে। এ সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়।