বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গঠিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে ১৭০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। দেশের ৭৩টি দেশি-বিদেশী প্রতিষ্ঠান তাদের লভ্যাংশের একটি অংশ এই ফাউন্ডেশনে জমা দেয়।
বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের গত মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত এই তহবিলের জমাকৃত টাকার মধ্যে ১৩৫ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে জমা করা হয়েছে। স্থায়ী আমানত থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত লভ্যাংশ হতে ২কোটি ৫০ লাখ টাকা রানা প্লাজাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে আজ আরো দুটি প্রতিষ্ঠান তাদের শতকরা ৫ ভাগ লভ্যাংশের এক দশমাংশ অর্থাৎ লভ্যাংশের শতকরা ১০ভাগ এই তহবিলে জমাদান করবে। এটা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।'
তিনি বলেন, 'আরো ৫টি প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার চেক এই তহবিলে জমা দিয়েছে। স্থায়ী আমানত থেকে এ পর্যন্ত ২কোটি ৫০ লাখ টাকা শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।'
দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু স্থায়ীভাবে অক্ষম, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের জরুরি চিকিৎসা, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য শিক্ষা বৃত্তির অর্থ এ তহবিল থেকে প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের যৌথ বীমার প্রিমিয়ামের অর্থও এ তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদপত্র শিল্পে কর্মরত কর্মীরাও এই তহবিলের সুবিধা ভোগ করতে পারবে বলে তিনি জানান।
মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, 'সরকার দেশের সকল শ্রমজীবীদের নিরাপত্তা আওতায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা বীমার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয় বিশেষ পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। এতে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমিক-কর্মচারী এই নিরাপত্তা বীমার আওতায় আসবে। ইতোমধ্যে সরকার দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য একটি গ্রুপ বীমা চালু করেছে। এতে দুই হাজার নির্মাণ শ্রমিকের প্রিমিয়ামের দুই তৃতীয়াংশ অর্থ সরকার বহন করছে।'
