ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে প্রথম বাধাটি অতিক্রম করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। একটি গণভোট আহবানের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের বিষয়টি অনুমোদন করেছে ভেনিজুয়েলার জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল (সিএনই)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রথম ধাপ ছিল দেশটির মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষরসহ একটি আবেদন জমা দেয়া। সিএনই জানিয়েছে, বিরোধীরা এটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
দেশটির ২৪টি প্রদেশের সবকটি থেকেই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। মাদুরোর পদত্যাগ দাবি করে দুই লাখ মানুষের বৈধ স্বাক্ষরসহ যে পিটিশনটি জমা দেয়া হয়েছিল, গত সোমবার তা অনুমোদন করার কথা জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কাউন্সিল।
তবে নির্বাচন কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পরবর্তী ধাপের জন্য কোনো তারিখ ঠিক করা হয়নি। পরবর্তী ধাপটি শুরু হলে, বিরোধীদের মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের স্বাক্ষর জোগাড় করতে হবে। বিরোধীরা দাবি করেছে, তারা এরই মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ (মোট ভোটারের ২০ শতাংশ) স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে।
এদিকে প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করতে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্টে বিরোধীদের কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। তবে বিরোধীরা জালিয়াতির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরো ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার কথা। কিন্তু মাদুরোর ক্ষমতার মেয়াদের প্রায় মাঝামাঝি অবস্থায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য পড়েছে ভেনিজুয়েলা। বিরোধীদের দাবি, মাদুরো প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেই দেশজুড়ে এই অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। আল জাজিরা ও বিবিসি
