আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সাহসী নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। শুধু জঙ্গি দমন নয়, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান রোধ করা সম্ভব হয়েছে। খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক ঐক্যের আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদার সঙ্গে কোনো ঐক্য হতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি মারা যাওয়ার পর যারা দরদ দেখায় তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্যের প্রশ্নই আসে না। অবশ্য তার আহ্বানের জন্য কেউ বসে নেই। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে জনগণ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে। বাঙালি বীরের জাতি। জঙ্গিদের কাছে আমরা পরাজিত হতে পারি না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিকুর রহমান আতিক এবং যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যগণের হাতে তাদের স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এ অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হচ্ছে। এটা রোগী বহনের কাজেই ব্যবহার করতে হবে। জঙ্গিরা যেন এতে না উঠতে পারে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাজনীতিকদের চাপে পড়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এমন অভিযোগ রয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, সরকারি হাসপাতালগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিজের সন্তানের মতো যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর চালকদের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এ মাসে আমরা হারিয়েছিলাম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই শোকের মাসে অ্যাম্বুলেন্স বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি অ্যাম্বুলেন্স প্রদানসহ স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে সকলকে খুশি রাখছেন। তিনি বলেন, এমনও এলাকা আছে যেখানে রাস্তাঘাট ছিল না, যাতায়াতের জন্য স্পিডবোট নিয়ে যেতে হতো। সে সমস্ত এলাকায় রাস্তা নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন উন্নত হয়েছে। এই রাস্তাঘাট যদি না হতো তাহলে অ্যাম্বুলেন্স চলতো কিভাবে? জেপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি ১০/১২ শতাংশে উন্নীত হলে আমাদের অনেক চাহিদাই পূরণ হবে। তিনি বলেন, আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। এদেশ আমাদের গৌরব ও অহঙ্কার। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যখাতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। মির্জা আজম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, হাজার হাজার ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক কাজ করেছেন। গ্রামে এখন ডাক্তার পাওয়া যায়। ইসমত আরা সাদেক বলেন, জনগণ যাতে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। শাহরিয়ার আলম বলেন, এক শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মী রোগী বহনে ব্যক্তি মালিকানার মাইক্রোবাসকে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স বিকল করে রাখে, এটা বন্ধ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. পারভেজ কবির স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যের মধ্যে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি, খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এমপি, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি, আব্দুল মতিন এমপি, এনামুর রহমান এমপি প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
