‌নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কসহ গ্রেফতার ৫

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৬, ২০:৫১
 
‘আল-আনসার’ নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই সংগঠনটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দা’র প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরির লেখা বইয়ের বাংলা অনুবাদ করে বাংলাদেশে ‘ইসলামী বসন্ত’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে। আল-আনসার সংগঠনের সদস্যরা ফেরিওয়ালা, গাড়ি চালক ও দোকানির ছদ্মবেশে দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই আল-আনসারের প্রধান সমন্বয়ক হাফেজ মাওলানা রাশিদুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে বাবুসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
 
বুধবার ভোরে হাজারীবাগের রায়েরবাজারের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন আবু বক্কর মনির, আব্দুল্লাহ আল মামুন মিয়া, রাইসুল ইসলাম ওরফে রাসেল ও আবদুল মালেক।
 
এরা সবাই আগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের কাছ থেকে আল-কায়দা’র প্রকাশিত বইয়ের বাংলা অনুবাদ করা বই, উগ্রপন্থি বই, প্রশিক্ষণ বই, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। আজ র‌্যাব-২ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
 
র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আল-আনসার সংগঠনটি অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের মতই বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে, বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশে কিছু জঙ্গি রাজধানীর হাজারীবাগের রায়ের বাজার এলাকার ভাড়া বাসায় জড়ো হয়েছে; এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি দল ভোর পাঁচটার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাশিদুল আলম দুই বছর আগে ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় পড়ার সময় ওয়ালিদ হামজা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। ওয়ালিদ সাত-আট মাস আগে তাকে হোসনাইন নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে হোসনাইন হাজারীবাগের বাসাটি ভাড়া নেন। পরে তিনি চলে যাওয়ার সময় রাশিদুল আলমকে ওই বাসায় ভাড়াটে হিসেবে রেখে যান। কিছুদিন পর আব্দুল্লাহ আল মামুনও এসে ওই বাসায় ওঠেন। তাদের কাছে হোসনাইন নিজেকে প্রকাশক হিসেবে পরিচয় দেন। জঙ্গিবাদে উস্কানিমূলক কিছু আরবি বই ও ভিডিও লেকচার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অনুবাদ করার জন্য তাদের দেন।
 
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব র্যাব জানায়, হাজারীবাগের আল জামিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার পাশের একটি বাসায় কিছু সন্দেহভাজন যুবক সংগঠিত হয়ে মোটর সাইকেল ও অটোরিকশায় বস্তা ভর্তি মালপত্র আনা-নেয়া করে। মাঝে কিছুদিন তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কারণ তারা তিন-চার মাস পরপর বাসস্থান পরিবর্তন করে। তাদের কেউ কেউ ছদ্মবেশে রিকশা বা প্রাইভেটকার চালায়, কেউ জিহাদের উদ্দেশ্যে ‘দাওয়াত’ দেয়ার কাজ করে, কেউ উগ্রপন্থি বই অনুবাদ আবার কেউ কম্পিউটার কম্পোজের কাজ করে। তাদের মধ্যে রাশিদুল আলম উগ্রপন্থি বইয়ের অনুবাদক, সংগঠনের প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারী। তার অনুবাদ করা বইয়ের মধ্যে রয়েছে আইমান আল জাওয়াহিরির লিখিত বই ‘রবিউল ইসলাম’-এর বাংলা সংস্করণ ‘ইসলামী বসন্ত’ ও ফিলিস্তিনি ইসলামি লেখক শায়খ আব্দুল্লাহ আজমের জীবনী ‘হায়াতু শাইখ আবদুল্লাহ আজম। আব্দুল্লাহ আল মামুন সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে রাশিদুল আলমের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেয় ও উগ্রপন্থি বই কম্পিউটারে কম্পোজ করেন। রাইসুল ইসলাম গাড়ি চালায়, সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা ও বিভিন্ন মালপত্র বহন করে। আবু বকর মনির ছদ্মবেশে রিকশাচালক হিসেবে বিভিন্ন স্থান থেকে রিকশায় সংগঠনের মালপত্র বহন করে। রিকশায় যাত্রী আনা-নেয়ার সময় তাদের সঙ্গে আল-আনসার সম্পর্কে দাওয়াত দেন। আব্দুল মালেকও সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি রিকশাচালক হিসেবে মালপত্র বহন করে।
 
এদিকে, ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, আল-আনসার নামে বাংলায় একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। এটি ইন্টারনেট সংস্করণ। একটি লেখায় বলা হয়েছে, ‘হাজী শরীয়াতুল্লাহর জমিনে আল্লাহ শরীয়াতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ--।’ পাকিস্তানের তানজীম আল কায়দার উস্তাদ আহমেদ ফারুকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে বার্তা দেয়া হয়েছে।