প্রিয়নবীর (স) ইশারায় চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হয়

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৩

প্রিয়নবীর (স) অন্যতম মু’জিজা চাঁদ দু’ভাগ হওয়া। তাঁর (স) মু’জিজা নিয়ে বহুল প্রচলিত না’ত: সা-আতিস্ সাজারু,/ নাতাকাল হাজারু,/ সুক্কাল কামারু-/ বি-ইশারাতিহি। অর্থাত্ ‘তাঁর জন্য গাছ এগিয়ে এলো, পাথর কথা বললো, চাঁদ খণ্ডিত হলো’। বিস্ময়কর এ ঘটনার সমর্থনে আল কুরআনের একটি সুরার নাম ‘ক্বামার’ (চাঁদ)। এতে মহান আল্লাহ্ বলেন- ‘কিয়ামত অত্যাসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে...’ (ক্বামার: ০১)। বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী (স) মক্কার মিনায় উপস্থিত ছিলেন। তখন কাফির মুশরিকরা তাঁর কাছে নবুওয়াতের প্রমাণ চায়। আল্লাহ্ পাক তখন ঐ সুস্পষ্ট ঘটনা দেখিয়ে দিলেন যে, চাঁদ দু’টুকরো হয়ে এক টুকরো পূবে অন্য টুকরো পশ্চিমে চলে গেল এবং মাঝে পাহাড় আড়াল হয়ে দাঁড়ালো! প্রিয়নবী (স) সবাইকে বললেন ‘দেখ এবং সাক্ষ্য দাও’। সবাই মু’জিজাটি দেখলো, কিন্তু কাফির-মুশরিকরা বিশ্বাস না করে অপেক্ষায় রইল অন্য এলাকার মানুষ কী বলে। দেখা গেলো, সুদূরের আগন্তুকরাও বলতে শুরু করল চাঁদ দু’টুকরো হবার ঘটনা সত্য এবং তারাও তা দেখেছেন।

৬১৭ খ্রি. ১৪ রজব বৃহস্পতিবার পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষ এ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। ভারতের মালওয়া মালভুমির চম্বল নদীর কাছে ধর রাজ্যের রাজা ভোজ নিজে এ ঘটনা দেখে ভবিষ্যত্ পুরানের বর্ণনার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে মুসলমান হয়ে যান। ইনিই রাজা আব্দুল্লাহ্। গবেষকদের ধারণা ও বিশ্বাস ইনিই ভারতের সর্বপ্রথম মুসলমান। বর্ণিত আছে, রাজা ভোজ প্রিয়নবীর (স) সঙ্গে সাক্ষাত্ করে মুসলমান হন এবং তিনিই (স) তার নাম রাখেন আব্দুল্লাহ্। পবিত্র কুরআনের সুরা ক্বামারের বর্ণনার সমর্থন মিলেছে চন্দ্রাভিযান এবং ইন্টারনেটের তথ্য-উপাত্তে। যাতে চাঁদে এক ধরনের ‘লুনার ব্যাল্টে’র অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। যা খণ্ডিত চাঁদ জোড়া লাগিয়েছে।

lলেখক:সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর