বন্যার পানিতে আসাম থেকে ভেসে আসা বুনো হাতিটি উদ্ধারে তিন সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছে। গত ৮ দিন ধরে সরিষাবাড়ীর চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতিটি। গত মঙ্গলবার সকাল হতে গতকাল সকাল পর্যন্ত হাতিটিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ঝালুপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন একটি আখ ক্ষেতের ভেতর আখ খেতে দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি দলটির হাতি উদ্ধারে অভিযান শুরু করার কথা।
ভারতীয় প্রতিনিধি দলে রয়েছেন: আসামের হাতি বিশেষজ্ঞ ও বন কর্মকর্তা রিতেশ ভট্টচার্য, কৌশিক বাড়ই ও এ এস তালুকদার।
ঢাকায় বন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি গতকাল দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন।
হাতিটি বন্যার পানিতে প্রায় এক মাসের অধিক সময় ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে। সারাক্ষণ মানুষের চিত্কার আর হৈ হুল্লোড়ে হাতিটি একবারও শুকনো স্থানে ওঠার সুযোগ পায়নি। এতদিন খাদ্যের অভাবে হাতিটি দুর্বল হলেও গতকাল সারাদিন আখ খেয়ে কিছুটা চাঙ্গা হতে দেখা গেছে। তবে দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় হাতিটির সর্বাঙ্গ সাদা হয়ে গেছে ।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী বিষয়ক অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, বুনো হাতিটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ তদারকিতে রয়েছে বন বিভাগের ১৭ সদস্যের একটি দল। আমরা সার্বক্ষণিক হাতিটির গতিবিধি লক্ষ্য করে পিছনে পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছি। আমাদের সাথে একজন ভেটেরিনারি সার্জন ও একজন দক্ষ মাহুতও আছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো হাতিটি কখনো ডাঙ্গায় ওঠছে না। ডাঙ্গায় না ওঠলে হাতিটিকে অজ্ঞান করা যাচ্ছে না। আর অজ্ঞান না করতে পারলে বশেও আনা যাচ্ছে না। অসুবিধা হলো পানিতে অজ্ঞান করলে হাতিটি মারা যাবে। কাজেই যে করেই হোক হাতিটিকে শুকনো জায়গায় তুলতেই হবে।
কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় কারিগরি টিমের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর তারা ঠিক করবেন, কোন প্রক্রিয়ায় হাতিকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে আনা হবে।
এই হাতিটির ওজন পাঁচ টনের বেশি। তাই সেটিকে শুধু অজ্ঞান করলেই হবে না, প্রাণীটিকে নিরাপদে পরিবহনের ব্যবস্থাও করতে হবে। কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, ওই চরে প্রাণীটিকে তুলে কোনো ট্রলার বা কোনো বাহনে তোলা সম্ভব না। এসব দিক বিবেচনা করে একটি নিরাপদ স্থানে হাতিটিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
