গাইবান্ধার ১০৬টি শাখা ডাকঘরের নিজস্ব কোনো ভবন নেই। ডাকটিকিট, খাম বেচাকেনার কাজ চলে মানুষের বাড়ি, দোকানঘর ও চায়ের স্টলে। ফলে সাধারণ মানুষ ডাক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘর কার্যালয়সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় ১২৬টি ডাকঘর রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান ডাকঘর একটি, উপজেলা ডাকঘর ছয়টি, সাব ডাকঘর পাঁচটি এবং শাখা ডাকঘর ১১৪টি। এসব শাখা ডাকঘরে ৩৩৬ জন শাখা পোস্ট মাস্টার ও গ্রামীণ ডাক রানার কর্মরত আছেন। ডাকঘরগুলোতে সমস্যার কোনো অন্ত নেই। বিশেষত শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। মোট ১১৪টি শাখা ডাকঘরের মধ্যে মাত্র আটটি শাখার নিজস্ব ভবন রয়েছে। অবশিষ্ট ১০৬টি স্থানীয় মানুষের বাড়ি, দোকানঘর ও চায়ের স্টলে চালানো হচ্ছে। এমনকি এসব শাখা ডাকঘরে কর্মরত পোস্ট মাস্টার ও গ্রামীণ ডাক রানারদের বেতন-ভাতাও অতি সামান্য। শুধু তাই নয়, এসব ডাকঘরে চিঠিপত্র পৌঁছানোর জন্য কোনো যানবাহন নেই। প্রধান ডাকঘর থেকে ২১ জন রানারের মাধ্যমে ওইসব শাখা ডাকঘরে চিঠি পৌঁছানো হচ্ছে।
গাইবান্ধার চারটি শাখা ডাকঘর ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলোর বেহাল অবস্থা। সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বকসিগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে মুদি দোকানে।
বকসিগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুর রউফ বলেন, ডাকঘরের কার্যালয় দূরের কথা, বেতন-ভাতাই পাই সামান্য। শুরুতে বেতন ছিল ২৯৬ টাকা। বর্তমানে এক হাজার ২৬০ টাকা। চাকরি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। কার্যালয় নেই। আমার ভাড়া করা মুদি দোকানে রাজস্ব ডাকটিকিট, খাম বিক্রি করছি। অথচ প্রতিমাসে টিকিট বিক্রি গড়ে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
বড় জামালপুর শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার নুরুজ্জামান আকন্দ বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় নিজের ঘরের বারান্দায় ডাকটিকিট খাম বিক্রি করছি। নিজের হোমিও ওষুধের দোকানে ডাকটিকিট বিক্রি করেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মকবুল হোসেন। ১৯৯৬ সাল থেকে চাকরি করছি। নিজের দোকানে সরকারি টিকিট বিক্রি করে মাসিক ১৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ভবন নির্মাণ হয়নি। পার্শ্ববর্তী বালাআটা শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে চায়ের স্টলে।
বাংলাদেশ অবিভাগীয় ডাক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র মোদক বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যারা ডাক বিভাগের সেবা দেন তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখ করার মত নয়। যেখান থেকে রাজস্ব আয় হয় সেখানে কোনো কার্যালয় নেই। সরকার আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করছে। তাই শাখা পোস্টমাস্টার ও গ্রামীণ ডাক রানারদের চাকরি জাতীয়করণ, ডাক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রেশন ব্যবস্থা চালুর জন্য আন্দোলন চলছে।
সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা গোলাম রব্বানী বলেন, দেশ এগিয়ে চলছে। কিন্তু ডাক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
গাইবান্ধা ডাকঘর পরিদর্শক মনির-উজ-জামান বলেন, শাখা ডাকঘরের কার্যালয় নির্মাণে বর্তমানে কোনো সরকারি পদক্ষেপ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাস জমি থাকলে অথবা কেউ জমি দান করলে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
