উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বন্যার পানি ধীরগতিতে কমছে। এতে যমুনা তীরবর্তী বাড়িঘরে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাড়ছে রোগবালাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীদের ভিড় বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন নগদ টাকা ও ওষুধের ব্যবস্থা না করায় রোগীদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। নদীর পাড়ের দূর্গাপুর, দশকিয়া, গোহালিয়াবাড়ী, সল্লা, নারান্দিয়া, এলেঙ্গা, বাংড়া, সহদেবপুর, পাইকড়া, কোকডহড়া ইউনিয়নের স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাটবাজার, ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট ও চড়ার ফসল এখনো পানির নিচে। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন বলেন, উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক সাহায্য প্রদানের জন্য তালিকা করে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নে মেঘনা তীরবর্তী চরলাপাং গ্রামের ১০টি বাড়িঘর ও ১৫টি দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মেঘনায় পানি বেড়ে যাওয়ায় এবং ড্রেজার দ্বারা অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে গ্রামের একটি বড় অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গনের আশংকায় মানুষজন তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, জরুরী ভিত্তিতে সুরক্ষা বাধ নির্মাণ করা না হলে আগামী ১০ বছরে গ্রামের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, নদী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাক্কলন ও সুপারিশমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
গফরগাঁওয়ের নতুন এলাকা প্লাবিত
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পৌর শহরের তিনটি ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি পাড়া-মহল্লা প্লাবিত হয়েছে। পৌরশহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলাসী কড়ইতলা, ৪ নম্বর ওর্য়াডের ষোলহাসিয়া কড়ইতলা, বধ্যভূমি সড়ক, চর জন্মেজয়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর জন্মেজয় এলাকায় অধিকাংশ বসত ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়েছে। ৫ শতাধিক পরিবারের প্রায় ৩ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, তবে মানুষের দুভোর্গ বেড়েছে। চরাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো নানা রকম সমস্যার মধ্যে রয়েছে। টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরের গ্রামগুলোর কয়েক হাজার পরিবার এখনও বন্যাকবলিত। তীব্র স্রোতের কারণে কয়েকটা পয়েন্টে নদী ভাঙ্গনও রয়েছে। এদিকে দুর্গত এলাকায় সরকারী ভাবে চাল, নগদ টাকা এবং পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান, পদ্মা শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপদ সীমার ১৬ সেন্টিমিটার এবং মাওয়ায় ৭ সেন্টিমিটার কমে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে।
উজিরপুরের নিম্নাঞ্চল পাবিত
উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, উজিরপুরে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল পাবিত। হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বীজতলা, পানের বরজ, রোপা আউশ আমন ও শাকসবজি। তলিয়ে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।
