ছিনতাই মামলায় চার জনকে আটকের ৪৫ দিন পরও একজনের খোঁজ পাচ্ছে না তার পরিবার। জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর রমনায় ৯ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করে। এদের মধ্যে দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়। বাকি দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তাকে পুলিশ গুম করেছে। এই নিখোঁজ ব্যক্তির নাম জাফর সিকদার (৩৬)। পেশায় গাড়িচালক। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের আনসারবাগে পরিবার নিয়ে থাকতেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী জেসমিন বেগম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে তার স্বামীকে পুলিশ ছিনতাই মামলায় আটক করে রমনা থানায় নিয়ে যায়। তার সঙ্গে আটক করা অন্য তিনজনের খোঁজ মিললেও তার স্বামীর খোঁজ মিলছে না। তাকে পুলিশ গুম করেছে অথবা হত্যা করেছে।
সূত্র জানায়, গত ১১ জুন দুপুরে রমনা পার্কের সামনে সুগন্ধা পয়েন্টের কাছে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে কলাবাগানের ব্যবসায়ী সামসুজ্জামান রতনের ৯ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়। পরে তিনি রমনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সফিকুল ইসলাম। গত ২০ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ খিলগাঁওয়ের বাড়ি থেকে রেন্ট-এ-কারের গাড়িচালক জাফর সিকদারকে আটক করে। পরে জাফরকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ আনসারবাগ জামে মসজিদের কাদের হুজুরের টিনশেড মেস থেকে রুবেল সিকদার ওরফে রুস্তম, বেল্লাল হোসেন ও পলাশ নামে তিনজনকে আটক করে। রুবেল সিকদার জাফরের ছোট ভাই। এই চারজনকে পুলিশ আটক করে রমনা থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর খিলগাঁও থানার পুলিশের সোর্স শামসু ওরফে বুইট্টা আটক জাফরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জাফরের স্ত্রী অভিযোগ করেন, সোর্স বুইট্টা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাফরকে আটক করিয়েছে। ঘটনার পরদিন সকালে জাফরের স্ত্রী ও তার ছোট বোন খাদিজা আক্তার শারমিন রমনা থানায় যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে বলা হয় যে জাফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে ২২ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটক রুবেল সিকদার ও বেল্লাল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন। আদালত ওই দুই আসামির ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
জেসমিন বেগম অভিযোগ করেন, আদালতে রুবেল সিকদারকে নেওয়ার সময় তারা কথা বলেছেন। রুবেল তাদেরকে জানায় যে ২১ জুন ভোরে পুলিশ জাফরকে থানার লকআপ থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে থানায় আর দেখতে পায়নি।
জাফর সিকদারের ছোট বোন জানান, আটক পলাশকে পুলিশ ২৬ জুন ছেড়ে দেয়। কিন্তু জাফর সিকদারের কোনো হদিস না পেয়ে তারা রমনা থানার ওসির দ্বারস্থ হন। ওসি তাদের আশ্বস্ত করেন যে তার ভাই ফিরে আসবে। তারা প্রতিদিন একবার করে রমনা থানায় গিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু তিনি দেখা করেননি। জাফর সিকদারের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে জেসমিন বেগম গত ১০ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
গত শুক্রবার মামলার বাদী সামসুজ্জামান রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শুনেছি এই মামলায় দুই আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু ওই দুই আসামিকে শনাক্ত করা হয়নি। পুলিশ তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেনি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (অপারেশন) সফিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল তারা কেউ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে ছিনতাইয়ে ব্যবহূত মাইক্রোবাসের চালক কাউছার এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে, ছিনতাইয়ের টাকাও উদ্ধার হবে। আর জাফর নিখোঁজের সমাধানও হবে। তবে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে স্থানান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, জাফর নিখোঁজের ব্যাপারে আমি কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখব।
