জিয়ানগরে জোয়ারে প্লাবিত বিদ্যালয় ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ০২:১৯
কচা ও বলেশ্বর নদ তিন দিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে জিয়ানগর উপজেলাকে। তাই এই নদ দুটিতে অতিমাত্রায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই প্লাবিত হয় উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম। আর এই গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠা বিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াতের রাস্তাও নিমজ্জিত হয় পানিতে। এমনকি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণও হয়ে পড়ে জলাবদ্ধ। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। আবার কিছু বিদ্যালয়ের মেঝেতেও পানি উঠে যায় অনেক সময়। ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়। এই সময়টাতে শিশু শিক্ষার্থীরা একপ্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকে।
 
উপজেলার পাড়েরহাটের দড়িচর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফয়সাল জানান, অতিরিক্ত জোয়ারের সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। গ্রামীণ সড়কগুলো প্লাবিত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে বইপত্র হারিয়ে ফেলে। এই প্রতিষ্ঠানসহ অনেক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। টগড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার গিয়াস উদ্দিন সেলিম জানান, জোয়ারের পানি অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে অনেক এলাকার ছাত্রীরা মাদ্রাসায় আসতে পারে না। বিশেষ করে বলেশ্বরের ভাঙা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্ব টগড়া গ্রামের ছাত্রীরা আদৌ ক্লাসে আসতে পারে না।
 

জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণও ডুবে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চমানের বেড়ি বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।