সুজানগরে পদ্মার ভাঙনে বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ০২:২০
সুজানগরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পদ্মার অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে পদ্মার পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
 
সরেজমিন খোঁজ-খবরকালে দেখা যায়, উপজেলার সাতবাড়ীয়া, মানিকহাট, নাজিরগঞ্জ ও সাগরকান্দী ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৫/৭ দিনের তীব্র ভাঙনে ওই ৩টি ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া, নারুহাটি, শ্যামনগর, ভাটপাড়া, গুপিনপুর, মালিফা, মালফিয়া, গোয়ারিয়া, কামারহাট, মহনপুর, মহব্বতপুর, নাজিরগঞ্জ, হাসামপুর এবং বরকাপুর গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর এবং শতাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ভাঙনের মুখে পড়েছে নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাট, নাজিরগঞ্জ বাজার, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নাজিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, বরকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোয়ারিয়া বাজার, রাইপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা, গুপিনপুর কবরস্থান এবং নারুহাটি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে ওই সকল প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
 
এ দিকে ভাঙনের পাশাপাশি পদ্মার সীমাহীন পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার সাগরকান্দী রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, মহব্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুলচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নরসিংহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাগতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুলাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হুগলাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বস্তাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শারীরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পানি ভেঙে বিদ্যালয়ে আসছে। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী কমে গেছে।
 
সাগরকান্দী রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান, গত ৪/৫ দিন হলো পদ্মার পানিতে তার বিদ্যালয় সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না। ফলে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে বসে থেকে সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি বন্যার পানিতে ওই তিনটি ইউনিয়নসহ পৌরসভার চরভবানীপুর, চরসুজানগর, চরমানিকদী এলাকার অর্ধশত বাড়ি-ঘর এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে উঠতি আউশ ধান, কচু, মরিচ, পটোল এবং মাষকলাইসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 

সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত হোসেন ভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।