জামালপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, সাতটি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়ন ভয়াবহ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।
ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকসিগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। সারা জেলায় বন্যায় প্রায় এক লাখ ৭৮ হাজার ৩৯৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। সাত উপজেলায় ছয় কিলোমিটর বাঁধ সস্পূর্ণ রূপে এবং ৫৮.৯০ কিলোমিটার মিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামপুর উপজেলা। উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরের বলিয়াদহ হতে মাহমুদপুর সড়ক ও ইসলামপুর হতে ঝগড়ারচর জিসিসি আর রাস্তা, ইসলামপুর-গোয়ালের চর নতুন রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মোরাদাবাদ কুলকান্দি রাস্তায় ডাব্লিও পিএম কাজের অনেকাংশ ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী ইউসুফ শাহী জানায়, ব্রিজ, কালভাটর্, বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, উপজেলায় ৮৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক সহশিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, মোট ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় শতাধিক বিদ্যালয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
IMG0
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, বন্যায় প্রায় দুই হাজার কৃষকের ৪৬০ হেক্টর বীজতলা, ৮২০হেক্টর শাখ-সবজি, ৬৮০ হেক্টর আউশ ধান, ১৩৫০ হেক্টর পাট, ৮০ হেক্টর জমির কলা, ২৪০ হেক্টর রোপা আমন ধানসহ মোট তিনহাজার ৬ শত ৩৬ হেক্টোর জমি বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ২ হাজার পরিবারের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্
মত্স কর্তকর্তা জানান, প্রায় চারশতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল বারেক বলেন, বন্যায় প্রায় ১৫ হাজার গরু, ২০ হাজার ছাগলসহ অনেক গৃহপালিত পশু পাখি ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে গোবাদি পশুর রোগবালাই মোড়ক দেখা দিতে পারে। তাই আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ইত্তেফাক/এএস
