ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তার অবস্থান পুনরুদ্ধারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী নির্বাচনী প্রচারণায় বারানসিতে রোড শো করেন। রোড শোয়ের সময় তিনি দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে দলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীও একই ধরনের রোড শো করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারানসি থেকেই রোড মার্চ শুরু হয়। তাদের প্রত্যাশা তারা তাদের হৃতগৌরব ফিরে পাবেন। হাজার হাজার সমর্থক ও কর্মী সার্কিট হাউস থেকে রোড শোতে অংশ নেন। শহরে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে হুড খোলা গাড়ি চেপে শুরু হয় সোনিয়ার শহর পরিভ্রমণ। প্রায় ৮ কিলোমিটার রোড শো শেষ হয় উত্তর প্রদেশের সাবেক কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী কমলাপতি ত্রিপাঠির মূর্তির পাদদেশে।
বিশাল এই রোড শোকে কেন্দ্র করে এখন সর্বত্রই প্রশ্ন কংগ্রেস কি তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে? এর উত্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসছে। অনেকেই বলছেন, এই রোড শো এর মাধ্যমে লাভের খতিয়ান খুব বেশি একটা কংগ্রেসের ঝুড়িতে পড়বে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চবর্ণ,নিম্নবর্ণ এবং মুসলিমদের ভোট ব্যাংক নিয়ে যে চিন্তা-ভাবনা কংগ্রেসের, তা কতখানি আলোর মুখ দেখবে তা-ই এখন দেখার বিষয়।
কংগ্রেস সূত্র জানায়, উত্তর প্রদেশে ব্রাহ্মণরা মুসলিমদের ভোট নিয়ে শঙ্কায় আছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর থেকে মুসলিমদের ভোটকে এখন তেমন একটা আস্থার জায়গায় দেখা হচ্ছে না। তবে এতকিছুর পরও কংগ্রেস তার পথে অনড়। কংগ্রেসের হাই প্রোফাইল নেতা শিলা দিক্ষিত এবং রাজ বাব্বার এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৌশলগত পন্থা অবলম্বন করছেন। রাজ্য কংগ্রেসের নতুন প্রধান বলিউড অভিনেতা রাজ বাব্বার মনে করেন, দলকে এ ক্ষেত্রে দারুণ কিছু করে দেখাতে হবে।
গত মাসে কংগ্রেস ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী উত্তর প্রদেশে একটা বড় ধরনের রোড শো করেছিলেন। সেসময়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী এতে অংশ নেন। এই দুটি রোড শো©ই এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। এসবকিছুর পর উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের পথচলা কতটা কণ্টকহীন হবে তা সময়ই বলে দিবে। তবে বিশ্লেষকদের মন্তব্য এ পথ অতটা মসৃণ নয়।
