ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ও পক্ষিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা তীরবর্তী বেড়িবাঁধের ১ কিঃ মি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। গত তিনদিনের ধমকা হাওয়া ও অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনায় অতি জোয়ারের পানি বাঁধের উপর আছড়ে পড়ায় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ওই দুই ইউনিয়নে বসবাসকারী ২০ হাজার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও বড় মানিকা ইউপির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দার এবং পক্ষিয়া ইউপির চেয়ারম্যান নাগর হাওলাদারসহ স্থানীয় জনগণ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় মানিকা ইউনিয়নের আলতাফ হাওলাদার বাড়ি থেকে ভূইয়ার খাল এবং পক্ষিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ার খাল থেকে ব্লকের মাথা পর্যন্ত ১ কিঃ মিঃ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ওই ২ ইউনিয়ন সংলগ্ন বেড়িবাঁধে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি স্থানে ছোট বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ২-৩ ফুট বেড়িবাঁধ অবশিষ্ট আছে। বাকি অংশ মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিচুল হক ও সিরাজ উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, অতি জোয়ারের এই ধারা এবং বাতাসের বেগ অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা যে কোনো সময়ে প্লাবিত হতে পারে। প্লাবনের আশঙ্কায় পৌর শহরসহ ৫ ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় বাঁধের আশপাশের কিছু পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। তবে নিম্ন আয়ের লোকজনকে বাড়িঘরেই অবস্থান করতে দেখা যায়।
শনিবার ইউপি চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন হায়দারের তদারকিতে শ্রমিকদের বাঁধ মেরামত করতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আ. হক, মো. বাবুল, হোসেন হাওলাদার, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার জোয়ার কমার সাথে সাথে দিন-রাত মেরামত কাজ চলছে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আকতার ৬শ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে জানান, বাঁধ মেরামতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/ এ এন
