চরভদ্রাসন উপজেলায় এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে লোকসানে পড়েছে কৃষক। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে পেঁয়াজের বাজার দর কম থাকায় উপজেলার চাষিরা পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসানে আছে। উপজেলার সদর বাজারে (সোমবার ও শুক্রবার) হাট ঘুরে দেখা যায় ভালো মানের প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৪০০/৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত কয়েক হাট আগে মণপ্রতি প্রায় একশ’ টাকা বেশি মূল্য পেয়েছে কৃষক। গত বছর পেঁয়াজের বাজার দর ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। গত বছর ১২শ’ থেকে ১৫শ’ এবং মৌসুমের শেষের দিকে ১৮শ’ টাকা দরে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছিল কৃষক।
ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা পেঁয়াজ চাষি মো. মোখলেস বলেন, ‘গত বছর লাভের মুখ দেখে এ বছর ধার-দেনা করে পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। লাগানো থেকে শুরু করে হাটে উঠানো পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হওয়ায় বিঘাপ্রতি ৭০/৮০ মণ পেঁয়াজ হওয়া সত্ত্বেও মৌসুমের শুরু থেকে পেঁয়াজের বাজার মূল্য কম থাকায় বিঘাপ্রতি উপজেলার সকল পেঁয়াজ চাষিদের প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা লোকসান হবে।
বিএসডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, গত বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করে বিঘাপ্রতি ৩৫/৪০ হাজার টাকা লাভ হওয়ায় এ বছর ৫২ শতাংশে বিঘার ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। তিনি কিন্তু দুর্ভাগ্য লাভের আশায় মৌসুমের শেষ দিকে পেঁয়াজ হাটে আনার পরও এ বছর বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান গুনতে হবে তার।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এখানকার পদ্মার উর্বর ভূমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ বেশি উপযোগী। এ বছর অত্র উপজেলায় প্রায় ৬শ’ ২০ হেক্টর (৩ হাজার একশ’ বিঘা) জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নে ২৯০ হেক্টর, গাজিরটেকে ২৪০ ও চর হরিরামপুরে ৯০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জহির রায়হান ইত্তেফাককে বলেন ‘এ বছর আমাদের দেশে মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। এ অঞ্চলে হালি/গুটি পেঁয়াজ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কৃষকের জানা থাকলেও মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশি পচনশীল হওয়ায় এখন পর্যন্ত এটা সংরক্ষণে কৃষকদের কোনো সহযোগিতা আমরা কৃষি অফিস করতে পারছি না। সেই সাথে চাহিদার তুলনায় উত্পাদন বেশি হওয়ায় পেঁয়াজের বাজার মূল্য কমে গিয়ে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে জানায় এই কৃষি কর্মকর্তা’।
