জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৬, ১৪:৪৭
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে জঙ্গিদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের আয়োজনে গতকাল শনিবার রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী সর্বধর্ম সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাত্র ১শ’ থেকে দেড়শ’  জঙ্গি রয়েছে। তাদের কাছে দেশের ১৬ কোটি মানুষ জিম্মি হতে পারে না। আমরা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি। রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি হত্যা মামলার চার্জশিট সন্ত্রাস দমন আইনে না দিয়ে প্রচলিত আইনে দেয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলাও দেশের প্রচলিত আইনে করা হয়েছে। বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি। এই অঞ্চলের জঙ্গিরা যে সকল হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং হত্যা প্রচেষ্টা চালিয়েছে সে সকল মামলাও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে তদন্ত করে আইনের সবদিক ঠিক রেখে আদালতে চার্জশিট দাখিল করছেন। তাই মামলাগুলো নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে দেখেছি দেশের কোথাও আইএস’র অস্তিত্ব নেই। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররাই এখন বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নামে মানুষ হত্যা করছে। তাদের একটাই লক্ষ্য, বিশ্বের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেয়া। 

 

সমাবেশে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। রংপুর অঞ্চলে কোনো জঙ্গিকে রেহাই দেয়া হবে না। পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে জঙ্গিরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে নেমেছে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এদের মোকাবেলা করতে হবে। উত্তরবঙ্গে জঙ্গি নির্মূল করা হবেই।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রংপুরের এমপি মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুন্সি বলেন, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মাত্র ১শ’ জন জঙ্গি ঘাতক রয়েছে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করা হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে হলেও তাকে রক্ষা করবো।

 

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ঈমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরো, দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশ’র বিশপ সেবাস্টিয়ান টুডু, হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া এমপি, আবুল কালাম আজাদ এমপি, মোতাহার হোসেন এমপি, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বীরপ্রতীক, জেলা পরিষদ প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন প্রমুখ।

 

বক্তারা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও বিশেষ  ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জঙ্গিদের বিচারের দাবি জানান। সমাবেশে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।