ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে ৪১ বছর আগে হত্যা করেছিল, তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মানুষের মন থেকে তাঁকে সরানো যাবে, সেটা আজ মিথ্যা প্রমাণিত। তিনি বলেন, গুলশানের জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এই জঙ্গিবাদ আমাদের বিকারের একটি প্রতিফলন, বাঙালির স্বভাবের নয়। বাঙালির স্বভাবসুলভ চেতনা দিয়ে এই বিকার রোধ করা সম্ভব হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
গতকাল রবিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারার বিবর্তন শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ফকরুল আলম। পরে নাগিশা ওশিমা নির্মিত জয় বাংলা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অধ্যাপক ফকরুল আলম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা হাজার বছরে একবারই আসেন। তিনি চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তাঁর প্রকাশিত-অপ্রকাশিত লেখা, বক্তৃতা এবং চিঠিপত্র। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেবল কান্না নয়, এখন তাঁকে নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। ১৯৭৫-এর শত্রুপক্ষ বসে নেই। তারা আরো শক্তি সঞ্চয় করে আঘাত হানার চেষ্টা করছে; কিন্তু যতদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলার প্রগতিশীল মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিন বাংলার মাটিতে উগ্রবাদীদের ঠাঁই হবে না।
ইত্তেফাক / এ এন
