কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের মোল্লাপাড়া পাখি পাড়া নামে পরিচিত। এই পাড়া প্রবেশ করতেই নাকে লাগে পাখির বিষ্টা ও গায়ের উত্কট গন্ধ। মোল্লাপাড়া এখন বিভিন্ন পাখিদের অভয়াশ্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিলুপ্ত প্রায় কালো পানকৌড়ি, সাদা বক, (এলাকায় ভাষা অনুযায়ী পাখিদের নাম) জ্যাটা বক, আম বক, কানি বক ও রাতচোরা দখলে পুরো পাড়া। প্রায় ১০ বছর ধরে মোল্লাপাড়া পাখ-পাখালির আশ্রয় কেন্দ্র। ওই পাড়ায় এখন শোভা পাচ্ছে ঐসব পাখিদের মেলা।
সকাল-সন্ধ্যা ঝাঁকে ঝাঁকে দলে-দলে পানকৌড়ি, সাদা বক, জ্যাট্যা বক, কানি বক, আম বক ও রাতচোরা কোলাহলে অতিথিরা ও পথচারীও মুগ্ধ হন। ঐ পাড়ায় বিভিন্ন বাড়ির বাঁশ ঝাড় এবং বিভিন্ন গাছ-গাছালির যেন ওদের আলাদা এক স্বর্গরাজ্য। যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। সকালে পাখিগুলো আহারের জন্য আশপাশে খোলা মাঠে চলে যায় আর সন্ধ্যা নামার আগেই দলে দলে ফিরতে শুরু করে। সেই সময় ঐ পাড়ার চার পাশে শুধু পাখিদের কোলাহলের শব্দ ভেসে বেড়ায় আর বাসায় ছানাগুলো অবিরাম ট্রেক....ট্রেক বা কিচিরমিচির করে ডাকতে থাকে।
উপজেলার মোল্লাপাড়া বাসিন্দা সাদিকুর রহমান মোল্লা বলেন, ৯ থেকে ১০ বছর ধরে আমাদের মোল্লাপাড়ায় পাখিগুলো বসবাস করছে। পাখিগুলো দেখতে খুব ভালোলাগে। তারা দিনরাত কিচিরমিচির করে ডাকে। পাখির ডাকে আমাদের সকালের ঘুম ভাঙে।
মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আনম শওকত হাবীব তালুকদার লজিক বলেন, পাখিগুলো আমাদের এলাকাতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে। পাখিগুলো আমার পরিবারের সদস্য ও সন্তানের মতো।
ইত্তেফাক / এ এন
