পটুয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ওষুধ নেই

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ২২:৪০

পটুয়াখালীর মা ও শিশু কল্যাণ চিকিত্সা কেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ নেই। চিকিত্সা নিতে আসা গর্ভবতী ও প্রসূতীদের চিকিত্সার সমুদয় ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। সেবা পেতে দিতে হয় সেলামি। এ সকল অভিযোগ সেখানে আসা ভুক্তভোগীদের।

জেলা সদরে গর্ভবতী ও প্রসূতী মায়েদের এবং নবজাতকের চিকিত্সার জন্য রয়েছে ২০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ চিকিসা কেন্দ্র। সেখানে আউটডোরে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী আসে চিকিত্সা সেবা নিতে। এদের অধিকাংশকেই ওষুধ ছাড়াই শুধু ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে আসতে হয়। অপরদিকে, এই কেন্দ্রে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় অর্ধশত ভর্তি রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হয়। যাদের স্বাভাবিক কিংবা সিজারের মাধ্যমে প্রসব হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐ চিকিত্সা কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয়- দক্ষিণ বিঘাই গ্রামের ফিরোজ আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী লাবনী আক্তারকে এখানে এনে ভর্তি করান এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এখানে চিকিত্সার জন্য তাকে বাইরে থেকে সকল ওষুধপত্র কিনে দিতে হয়েছে। আয়া-সুইপারদের খুশি করা ছাড়াও বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয়েছে আড়াই হাজার টাকা সেলামি। একই সময় ঐ চিকিত্সা কেন্দ্র থেকে চিকিত্সা শেষে রিলিজ নেওয়া মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর মরিয়ম আক্তার ও সদর উপজেলার লোহালিয়ার পারভীন বেগমের সঙ্গে থাকা লোকজন জানান, একই ধরনের কথা। তারা বলেন, এখান থেকে একটা সুঁই-সিরিঞ্জ পর্যন্ত দেওয়া হয় না। সেলামের সঙ্গে সেলামিতো দিতেই হয়।

কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইসরাত জাহান ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বরাদ্দকৃত ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত দুই মাস ধরে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। যা আছে তা এখান থেকে দেওয়া হয়। তবে সেলামি নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এখানে বিনা বেতনে তিনজন আয়া-সুইপার রোগীদের কাজকর্ম করে; তাদেরকে রোগীর লোকজনরা খুশি হয়ে কিছু দিয়ে থাকতে পারেন।