পুটখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামেনি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৬, ১৮:২৪
বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এখনো থামেনি। এর জের ধরে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষে বারপোতা বাজারে একপক্ষ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যুবদল নেতা সিয়াদসহ ৪জন আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। 
 
অভিযোগে জানা গেছে, পুটখালী ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আব্দুল গফ্ফার সরদার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামলেও শার্শার এক শীর্ষ জনপ্রতিনিধির সমর্থীত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হাদি-উজ্জামানের আনারস প্রতীকের  কাছে পরাজিত হয়। সেই থেকে চলছে আওয়ামী লীগের দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ। 
 
শনিবার রাতে তারই জের ধরে নির্বাচীত বিদ্রোহী চেয়ারম্যান হাদি-উজ্জামানের সমর্থক ওসমান, আক্কাজ, গফফার, রাসেল, বিদ্যুৎ, সুরুজসহ ১৫/২০ জন বারোপোতা বাজারে বোমা ফাটিয়ে ৭/৮টি মোটরসাইকেলে করে শিবনাথপুর বারোপোতা গ্রামের যুবদল কর্মী সিয়াদ আলীর বাড়িতে হামলা করে তার প্রতিবন্ধী ছেলে আরাফাতকে (১০) হুইল চেয়ার থেকে ফেলে মারপিট করে। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা সিয়াদের ঘরের আসবাবপত্রসহ ভাতের হাড়িপাতিল, বাথরুম, পানির কল, টেবিল, চেয়ার,কলস, প্লেট, গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় তারা সিয়াদের খাবার জন্য রাখা চালের ব্যারেলে কেরোসিন ঢেলে দেয়। এ সব ঘটনা বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপস্থিতিতে হলেও পুলিশ কোন বাধা দেয়নি বলে সিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন। সিয়াদের প্রতিবন্ধী ছেলের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এরপর ঐ দুর্বৃত্তরা দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের  আওয়ামী লীগ কর্মী ভ্যান চালক মুনা আব্বার এর বাড়িতে হামলা করে হাড়িপাতিল, বাথরুম, পানির কল,  চেয়ার, কলস, প্লেট, গ্লাস ভাংচুর করে। 
 
মহিষা ডাঙ্গা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী ওবায়দুর রহমান ওবায়, আলী হোসেন ও পাচু মোড়লের বাড়িতে হামলা করে এবং তাদের বাড়িতেও ভাংচুর করে। বিষয়টি বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ সাথে নিয়ে দুর্বৃত্তরা এ তাণ্ডব চালায়। পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন।
 
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ অপূর্ব হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তা রিসিভ করেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-৬ এর দৃষ্টি কামনা করেছেন।