রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে উৎপাতকারী কুকুরগুলোকে ট্রেনে করে ভৈরবে নিয়ে ছেড়ে আসার পর সেগুলো আবার ফিরে এসেছে।
গত ১১ আগস্ট সকালে লোহার খাঁচায় ভরে ৬টি কুকুরকে (বড় আকারের) ঢাকা-ময়মনসিংহগামী ঈশা খাঁ ট্রেনে ( লোকাল) করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল ভৈরবের ফাঁকা জায়গায়। রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিআই) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার রাতেই ৬টি কুকুরের মধ্যে ৪টি আবার কমলাপুরে রেল ষ্টেশনে ফিরে এসেছে। যে প্লাটফর্মগুলোতে কুকুরগুলো বেশি সময় কাটাতো ফিরে এসে সেখানেই তারা অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, কুকুরগুলোর জন্ম, বেড়ে ওঠা কমলাপুর স্টেশন ঘিরেই। ফলে শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে ছেড়ে এসেও কোন লাভ হয়নি। তারা ঠিকই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরেছে। কুকুরগুলোকে দেখে আমরা সবাই রীতিমত বিস্মিত হয়েছি। এখন কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লাঠি দিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে যতটুকু ঠেকানো যায় তাই করা হবে।
রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, কমলাপুর রেল স্টেশনে ছোট বড় মিলে দুই শতাধিক বেওয়ারিশ কুকুর আছে। এসব কুকুর প্লাটফর্মগুলোতে অবাধে বিচরণ করে। খাবার ভাগাভাগি নিয়ে কুকুরের মধ্যে ‘ঝগড়া’ নিয়মিত ঘটনা। এদের ডাকাডাকিতে ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশুরা ভয়ে তটস্থ থাকে।
গত কয়েক মাসে এসব কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী ও রেল কর্মী। এমন অবস্থায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়ে দেন, কুকুর নিধন নিষিদ্ধ। কোন অবস্থায় কুকুর নিধন করা যাবেনা। তাদের ( সিটি কর্পোরেশনের) কিছুই করার নেই। রেল কর্তৃপক্ষ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজনকে দায়িত্ব দেন কুকুর তাড়ানোর। তারা (নিরাপত্তা কর্মী) লম্বা লাঠি নিয়ে কুকুর তাড়াতে শুরু করে। কিন্তু তাতেও কুকুর ঠেকানো সম্ভব হচ্ছিল না। লাঠি অভিযান ব্যর্থ হবার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এসব কুকুর ধরে ট্রেনে করে কোন দূর অবস্থানে ছেড়ে দেয়ার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সকালে রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা বড় মাপের ৬টি কুকুর আটক করে। পরে একজন নিরাপত্তা কর্মীর তত্ত্বাবধানে লোহার খাঁচায় করে কুকুরগুলোকে ভৈরবে নিয়ে গিয়ে ফাঁকা যায়গা দেখে কুকুরগুলো ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।
