মাছ ধরা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৬, ১৮:৫১

সুনামগঞ্জের ছাতকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৩০জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বুধবার দুপুরে নোয়ারাই ইউনিয়নের মৌলা গ্রামের হাসনাত উল্লাহ ও মছব্বির আলী পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 
আহতরা ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের অভ্যন্তরেও দ্বিতীয়বার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার পুলিশে খবর দেয়। তাৎক্ষনিক ছাতক থানার ওসি(তদন্ত) ও এসআই সৈয়দ আব্দুল মান্নানসহ একদল পুলিশ হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
 
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গ্রাম সংলগ্ন একটি ডোবার মালিকানা নিয়ে হাসনাত উল্লাহ ও মছব্বির আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার বিকেলে হাসমত উল্লাহ পক্ষ বিরোধকৃত ডোবায় পানি সেচে মাছ ধরার প্রস্ততি নিলে মছব্বির আলী এতে বাধা দেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সালিশে নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দিয়ে তাৎক্ষনিক মিটিয়ে দেয়।
 
বুধবার এ ঘটনা নিয়ে সালিশ-বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু সকালে হাসমত উল্লাহ পক্ষের লোকজন ডোবায় অবস্থান নিলে প্রতিপক্ষ মছব্বির আলী পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
 
গুরুতর আহত ইউসুফ আলী, শিপন, জিয়া উদ্দিন, তরিবুন নেছা, এমরান, শফিক, দেলোয়ার, আব্দুস সহিদ, ওয়াছির আলী, সুরুজ আলী, সজিদ আলী, রবিউল, সাজিত মিয়া, সুজিত মিয়া, রহিম আলী, রজব আলী, আনর আলী, ফিরোজ আলী, উস্তার আলী, মানিক আলী, লাল বানু, আনোয়ার আলী, মুক্তার আলী, সায়েক আলী, সেলিম, মিনার হোসেনসহ ৩০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যান্যদের ছাতক হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাইভেট চিকিৎসা দেয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/ এএন