চালু হচ্ছে না মধুখালী হাসপাতালের নতুন ভবন, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৬, ১২:১৭
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা কমপ্লেক্সটিকে সরকার ২০১৩ সালে ৫০ শয্যা করার ঘোষণা দেন। এরপর ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চার তলা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল ভবন, একটি পরিবার পরিকল্পনা অফিস কাম স্টোর ভবন এবং  কর্মচারীদের জন্য চার তলা বিশিষ্ট একটি ডরমেটরি ভবন নির্মিত হলেও এসব ভবনের কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। যে কারণে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা মানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
 
২০১৫ সালের ৩০ মে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে ওই ভবনগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. ওয়াজেদ মিয়া  হস্তান্তর করেন। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় এর কার্যক্রম চালু করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
 
এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনার নতুন ভবন নির্মিত হলেও সেটি উদ্বোধন না হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচটি কক্ষে তারা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। যে কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে পারছেন না।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। চার তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনসহ আরো দুটি ভবন সম্পন্ন হয়। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় সেটি উদ্বোধন বা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল ভবনটিতে নিচ তলায় ট্রমা সেন্টার সংশ্লিষ্ট একটি এসি অপারেশন থিয়েটার, এক্সরে বিভাগ, একটি অবজারভেশন রুম, একটি পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, সার্জিক্যাল চিকিৎসকদের রুম, নার্স রুম এবং ইপিআই রুম। ৩য় ও ৪র্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড এবং দুটি ক্যাবিন রয়েছে।
 
তিনি অভিযোগ করেন, এক বছর তিন মাস আগে ভবন নির্মিত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় ও যন্ত্রপাতি না থাকায়  ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না। এ দিকে নতুন ভবনে ৩য় ও ৪র্থ তলায় ট্রলির মাধ্যম রোগী বহনের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক মাত্র একজন।
 
ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. অরুণ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘এটা আইনি জটিলতা। ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও মূলত যন্ত্রপাতির স্বল্পতা এবং আর্থিক অনুমোদন না থাকায় এটা উদ্বোধন বা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে এটা ‘নামে আছে কাজে নেই’। ’
 
চলতি অর্থ বছরে হাসপাতালটির সকল আর্থিক অনুমোদন পাওয়ার সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ