ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। ঝড়ে জেলার শতাধিক বাড়িঘর ও সহস্রাধিক গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কের যান চলাচল। রবিবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রবিববার সকাল থেকেই ফরিদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। ঝড়ে বাখুণ্ডা এলাকায় দেশের অন্যতম বৃহৎ জোবাইদা করিম জুট মিলের শেডের প্রায় ৫/৬ হাজার বর্গফুট স্টিলের চাল শেডের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এ সময় চাপা চড়ে এক নারীসহ তিন শ্রমিক নিহত হয়। নিহত শ্রমিকরা হলো হযরত আলী (৪০), আকাশ (২২) ও মালতি (২৫)। নিহত সবাই মিলে কাজ করছিলেন। এসময় আহত হয় অন্তত ৫০ শ্রমিক। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
IMG0 মিলের জেনারেল ম্যানেজার মতিউর রহমান জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের ঘুর্ণিঝড়ে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করা যাচ্ছে না।
ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে সদর উপজেলার কেশবনগর এলাকায় বীরেন বিশ্বাস (৩৫) নামের এক ব্যক্তি মারা যায়। এছাড়া মানিকগঞ্জ থেকে শ্রমিকের কাজে আসা আবুল হোসেন (৪০) নামের এক শ্রমিক মারা গেছে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে। ওই এলাকার বারেক দড়ানীর বাড়িতে মুজুরের কাজ করতে গিয়ে সে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিুকর রহমান।
IMG1
সংবাদ পেয়ে জোবায়দা করিম জুট মিলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী, পুলিশ সুপার মো: জামিল হাসানসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫টা) ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট জোবায়দা করিম জুট মিলের বিধ্বস্ত শেডে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিল।
এছাড়া ঝড়ে ফরিদপুর সদর উপজেলার গঙ্গাবর্দী, সাদীপুর ও খুশীরবাজার এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে ফরিদপুর সদরের মধুখালীর গড়াই সেতু পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ৫শতাধিক গাছ ও বিদ্যুতের খুটি উপড়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ৫ ঘন্টা এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
IMG2
অপরদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জোয়ারের মোড় এলাকায় শতাধিক গাছ ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কয়েকশত যানবাহন আটকা পড়ে রাস্তায় দুই পাশে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে গদাধরডাঙ্গী, কেশবনগর, দরানীপাড়া, মল্লিকপুরসহ মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারনে দুপুর থেকেই পুরো জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর শহরসহ পুরো জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা এবং শ্রমিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের এনডিসি মনদীপ ঘরাই জানান, নিহত ৫ জনের পরিবারকে বিশ হাজার করে টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মিলের আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, করিম জুট মিলসহ বিভিন্ন এলাকায় আহত ৫০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
