ভিত্তি স্থাপনের ১১ বছর পার হলেও আলোর মুখ দেখেনি জয়পুরহাট কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও সংশোধনাগার প্রকল্পটি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা অফিস ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি অব্যাহত রয়েছে। প্রকল্পটির ভিত্তি স্থপান করা হয় ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, জয়পুরহাটে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও সংশোধনাগার স্থাপন বিষয়ে জমি অধিগ্রহনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি পত্র পাঠানো হয় ( পত্র নং-ভূ:ম:শা-৫/২অ:/জয়পুর-০১/২০০৫-০৯, তাং ২৫/০২/২০০৭)। ওই পত্র মোতাবেক জয়পুরহাট সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর পরিত্যক্ত জমি থেকে ১০ দশমিক ৫৩ একর জমি প্রস্তাবিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের জন্য হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসন প্রাক্কলিত মূল্য ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ১১৭ টাকা উনচল্লিশ পয়সা পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পত্র প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় বা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় পরে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের নিকট ওই জমির হালনাগাদ মূল্য জানতে চেয়ে আবার একটি পত্র প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন এবার ওই জমির হালনাগাদ মূল্য হিসাবে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৯ টাকা একান্ন পয়সা নির্ধারণ পূর্বক সমাজসেবা অধিদপ্তরকে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পত্র মারফত জানায়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকেও মূল্য পরিশোধের জন্য একটি তাগাদা পত্র প্রদান করা হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। কিন্ত জমির মূল্য পরিশোধের জন্য কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন পর জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় টনক নড়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের জন্য জমির মূল্য টোকেন মূল্যে বা পূর্ব নির্ধারিত (৮৮ লাখ ৯২ হাজার ১১৭ টাকা উনচল্লিশ পয়সা) টাকা বহাল রাখার বিষয়ে ২০১৪ সালের ২৪ আগষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট আবার একটি পত্র দেয়া হয়। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়েল ১৯৯৭ এর অনুচ্ছেদ ৭৫ অনুযায়ী এক সংস্থার অনুকূলে অধিগৃহীত জমি অন্য সংস্থার অনুকূলে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সম্পত্তির বাজার মূল্য নির্ধারন করা ও প্রাক্কলনের ৬০ দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করার বিধান রয়েছে।
কিন্ত সময় মতো মূল্য পরিশোধ না করা ও উক্ত জমি নিয়ে বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ৪টি বন্দোবস্ত কেস থাকায় হস্তান্তর সম্ভব নয় বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় চিঠি চালাচালি হলেও জয়পুরহাট কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও সংশোধনাগার প্রকল্পটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যপারে জয়পুরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সেলিম শাহ জানান, অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রকল্পটি বাস্তয়নের জন্য জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্যের সুপারিশ সহ একটি আবেদন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ ওই স্থানে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ও সংশোধনাগার প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপন করেন।
ইত্তেফাক/এএন
