উল্লাপাড়ার উধুনিয়া ইউনিয়নের চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিভবন বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে এই ভবনে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ আলম জানান, স্কুলে বর্তমানে সাড়ে ৩শ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। চলনবিল এলাকায় অবস্থিত স্কুলটি প্রতি বছর বন্যার সময় প্রবল ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ বছর বন্যার প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে স্কুলের একটি পাকা মেঝের টিনের ভবন বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। মেঝের অর্ধেক অংশ ধ্বসে গেছে। এই ভবনে নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়।
বন্যার পানি কমে যাওয়ায় স্কুলে এখন পাঠদান শুরু হয়েছে। কিন্তু উক্ত শ্রেণি ভবনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্য শ্রেণি ভবনের অপ্রশস্ত বারান্দায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে কোনরকমে ক্লাস চালু রাখা হয়েছে। এতে পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
স্কুল ভবনের এ দূরাবস্থার কথা ইতিমধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে ভবনটি দ্রুত পুননির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন। প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত এই স্কুলে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে কোন পাকা ভবন নির্মান করা হয়নি। ফলে প্রতি বছরই বন্যার সময় এর কাঁচা ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হবার কথা স্বীকার করে জানান, এ বছরের বন্যায় চয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ উপজেলার মোট ২৭ টি বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসব স্কুলের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
