শিশুর জন্য রঙিন দেয়াল

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৬, ১২:০৮
 
ছোট্ট রোদ্দুরের দিনমান ছোটাছুটি। এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয় না পরিবারের ছোট্ট এ সদস্যটি। আর সুযোগ পেলেই বাবার কিনে দেওয়া রংপেন্সিল নিয়ে দেয়ালে আঁকিবুঁকি—কখনও জাদুর কাঠি হাতে পরী, আবার কখনও ফুল-লতা-পাতা, আবার কখনও বড় কোনো রাজপ্রাসাদ যেখানে বসে আছে রাজকুমারী সিনড্রেলা। সবকিছু তার আঁকা চাই। ঘরের এক রঙা দেয়ালজুড়েই তার শিল্পকর্মে ছেয়ে গেছে। এরচেয়ে রোদ্দুরের ঘরটা যদি হতো বর্ণিল, তবে সব ঝামেলাই চুকে যেত।
 
আজকাল শিশুদের ঘরের আসবাব কেনার সময় যেমন বাবা-মায়ের আলাদা ভাবনা থাকে, তেমনটি থাকে ঘরের দেয়ালের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও।
 
শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে ঘরের দেয়াল গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যে ঘরে সে থাকবে, সেই ঘরের পরিবেশের প্রভাব তার ওপর পড়বে। তাই শিশুদের ঘরের ডিজাইন বা নকশা করার ক্ষেত্রে দেয়ালের রং আর ডিজাইনের প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, শিশুদের ঘরে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করাই ভালো। তবে শিশুদের ঘরের দেয়াল বর্ণিল করানো মানে এই নয় যে, সবগুলো রং চোখে লাগার মতো হতে হবে। বরং হালকা কয়েকটি রং ব্যবহার করাই ভালো। মেয়ে বাচ্চার ঘরের জন্য গোলাপি, হালকা কমলা, হালকা নীল বা বেগুনি রং ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই রং নিছক ব্যবহার করলেই হবে না। বরং এর সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে শিশুটির স্বপ্নের কোনো চরিত্র, কখনও পরী, ফুল আর লতা-পাতা। ছেলেশিশুদের ঘরের জন্য হালকা সবুজ, ধূসর, নীল রঙের সঙ্গে পছন্দের কোনো কার্টুনের একটা চরিত্র বা রাখাল ছেলে আবার বিভিন্ন মোটিফের আকারে কোনো কিছু করা যেতে পারে। হয়তো দেয়ালের মাথার অংশটাতে একটি গাছ আর সেই গাছের ওপর একটা ঘড়ি রয়েছে। এতে করে শিশুটি হয়তো কিছুটা সময় সচেতন হবে। যেদিকে মুখ করে সে ঘুমুবে, সেই দিকটায় রঙের ব্যবহারটা এমন হবে যেন খোলামেলা মনে হয়। বা রং দিয়ে একটি ছবির জানালা এঁকে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে মনে হবে, রুমটা অনেক বেশি খোলামেলা। শিশুর ভেতরটা হবে অনেক বেশি মুক্ত।
 
ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের মতে, শিশু ছেলে বা মেয়ে এ বিষয়ের সঙ্গে মুখ্য বিষয় হলো শিশুর বয়স কত। সাধারণত ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুর আগ্রহ আর পছন্দ এক রকম থাকে। তবে নয় বছরের পর থেকে আগ্রহের জায়গায় কিছুটা পরিবর্তন চলে আসে। শিশুর সঙ্গে কথা বলে শুনে নিতে হবে সে কী চাচ্ছে? তার আগ্রহের জায়গা কোনটা? তবে সর্বোপরি শিশুর ঘরের দেয়ালের মধ্যে একটা মূল অংশ থাকতে হবে। ঘরে ঢুকেই যে জায়গায় চোখটা আগে যাবে। দেয়ালজুড়ে ছোট ছোট তারা বা কার্টুন এঁকে দেওয়া যেতে পারে। চাইলে দেয়ালে রং করে তার ওপর রেডিয়ামের তারার স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। দেয়াল সুন্দর করতে অনেকেই পর্দা পছন্দ করেন। শিশুর ঘরের পর্দা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুই বা তিন রঙের কাপড় ব্যবহার করলে ভালো হয়। এই পর্দায় করা যেতে পারে সুতা আর ব্লক, বাটিক কিংবা নানা কাজ আর ডিজাইন। তবে পুরোটাই হবে শিশুতোষ, যা দেখে শিশুর ভালো লাগবে। তখন হয়তো শিশু অনেক কিছুই শিখবে না বুঝেই, হবে বিকশিত। লক্ষ রাখতে হবে, দেয়ালের রং আর পর্দার সঙ্গে ঘরের বাকি আসবাব আর আনুষঙ্গিক জিনিসের যেন সামঞ্জস্য থাকে।