জবি শিক্ষার্থীদের অব্যাহত ধর্মঘটে অচল পুরান ঢাকা

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৬, ১৮:৪৪
নতুন হল নিমার্ণের দাবিতে এবং শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। 
 
মঙ্গলবার ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে বুধবারও ধর্মঘট হবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন হল নির্মাণে সুস্পষ্ট ঘোষণা ও কেন্দ্রীয় কারাগারের সম্পূর্ণ জায়গা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তরের দাবিতে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনসহ সমস্ত অনুষদে তালা মেরে দিয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে। ধর্মঘটের শুরুতেই উপাচার্যের ভবনে তালা দেন আন্দোলনকারীরা।
 
ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভবনের ফটকসহ বিভিন্ন ভবনের ফটকে তালা ঝুলছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কোনো বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্যাম্পাসে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
হল নির্মাণের দাবিতে তারা নানারকম স্লোগান ও প্ল্যাকাড নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষকদের বাস থামিয়ে অবরোধ শুরু করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রধান ফটকের অর্ধেক অংশ কর্তৃপক্ষ কেটে ফেলায় সেটিতে তালা দিতে না পারলেও সবক’টি ভবনেরই ফটকে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করেন তারা। পরে সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনের সড়কে থেকে মিছিল শুরু করে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। এক সময় শাখারীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড ভেঙ্গে মিছিলটি রায়সাহেব বাজার মোড়ে পৌঁছলে পুলিশের ফের বাধার সম্মুখীন হন তারা। আন্দোলনকারীরা পরে রায়সাহেব বাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ  করে। এ সময় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট ও নয়াবাজার মোড় থেকে ধোলাইখাল মুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রায় সাহেব বাজার মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করে জবি ছাত্রলীগ। 
 
শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে জবির আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। ধর্মঘটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
 
এদিকে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার ব্যবসায়িক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদরঘাট-গুলিস্তান সড়কে যান চলাচল সীমিত ছিল। যে কোন পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসের আশেপাশের দোকান ও মার্কেটসমূহ বন্ধ রাখা হয়। ফলে পুরান ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
 
ইংলিশ রোডের মুদি দোকান ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কেবল বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে, ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার চেষ্টা করেছে জবি প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিচ্ছেন না।
 
এদিকে অপ্রীতকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও পুরান ঢাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
কোতয়ালী থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন আন্দোলন থেকে শিক্ষার্থীদের সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
 
প্রসঙ্গত, নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা বরাদ্দ দেয়ার দাবিতে গত ২ আগস্ট থেকে আন্দোলন করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে হলের দাবিতে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিলের কর্মসূচি ছিল আন্দোলনকারীদের। তবে বংশাল মোড়ের পর মিছিলটি আর এগোতে দেয়নি পুলিশ। ছাত্রদের ওপর টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করে পুলিশ। এরপর ওই ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন আন্দোলনকারীরা। পরে কর্মসূচির পরিবর্তন করে বলা হয়, কেবল মঙ্গল ও বুধবার ধর্মঘট পালন করা হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানালেও তারা সাড়া দেননি। 
 
আন্দোলনকারীদের অন্যতম সংগঠক বাংলা বিভাগের রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া কারও সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে না। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই