কোরবানির বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে পদক্ষেপের দাবি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৬, ১৯:০৩
মক্কার আদলে কোরবানির বর্জ্য যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনায় আনা যায় তবে কোরবানি পরবর্তী পরিবেশ দূষণ যেমন রোধ করা যাবে তেমনি জবাই পরবর্তী উচ্ছিষ্ঠাংশ সম্পদে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
 
কোরবানি ও এর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে করণীয় নির্ধারণে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) উদ্যোগে পবা কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন অভিমত তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
 
বক্তারা বলেন, প্রতিবছরই ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সর্বত্র কোরবানি ও এর বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাবে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বর্জ্যসমূহ সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না। পরিচ্ছন্নতাকে ইসলাম ধর্ম অতীব গুরুত্ব প্রদান করেছে। নিঃসন্দেহে পরিচ্ছন্নতার প্রসঙ্গটি কোরবানির ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রযোজ্য। অথচ আমরা প্রতিবছর দেখছি যত্রতত্র পশু জবাই করা হচ্ছে। পশুর রক্ত ও আবর্জনায় রাস্তাঘাট সয়লাব। ড্রেনে পানির প্রবাহ আটকে যাচ্ছে, উপচে পড়া নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
 
তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলে কোরবানির বর্জ্য খোলা স্থান, ঝোপঝাড়ের পাশে, খালে-বিলে বা নদীতে ফেলা হয়। সব মিলিয়ে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটে। রোগ বিস্তারও ঘটতে থাকে। কোরবানি ঈদের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত দুর্গন্ধে নগর-জনপদের বাতাস ভারী থাকে। আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের পরে রোগবালাইয়ের হার কতটা বেড়ে যায় তার ওপর কোনো গবেষণা করা হয়নি।
 
তারা আরো বলেন, গত বছর কোরবানি ঈদের সময় সরকার ঢাকাসহ কিছু স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। এ বছরও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পশু কোরবানির জায়গা নির্ধারিত করা হয়েছে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
 
পবার প্রেসিডিয়াম সদস্য  ড. এম এম সফিউল্লাহর সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী।
 
এছাড়াও বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন- পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, সহ-সম্পাদক আবুল হাসনাত প্রমুখ। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই