ভারতের সরকারি সহায়তার প্রায় ২৩শ' টন চাল নিয়ে এমভি অভি নামের একটি ভারতীয় জাহাজ আজ মঙ্গলবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করেছে।এসব চাল আশুগঞ্জ নৌবন্দরে কাষ্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বুধবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সড়ক পথে কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা নিয়ে যাওয়া হবে। তবে এবার এই পণ্যতে কোন প্রকার মাসূল নেয়া হচ্ছে না।
চাল খালাসের জন্য আশুগঞ্জ বন্দরে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালের নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় মানবিক কারণে শুল্ক ছাড়াই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার টন ভারতীয় খাদ্যশস্য (চাল) বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পরিবহনের অনুমোদন লাভ করে ভারত।
ইতোমধ্যে চুক্তির আওতায় ২০১৪ সালে আগষ্ট মাসে ১০ হাজার টন ও ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ১০ হাজার টনসহ মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারত পৌঁছেছে। ওই চুক্তির আওতায় এমভি অভি নামের ভারতীয় জাহাজে করে ২২৭২.৪৮৫ মেট্রিক টন চাল আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করেছে।
কলকাতার বজবজ জেটি থেকে চাল পরিবহন কাজ করছে বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন বিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। ভারতের কলকাতার বজবজ জেটি থেকে এ চাল ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের ৪৫০ কিলোমিটার নৌ-পথ ও ৫০ কিলোমিটার স্থলপথ ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু আশুগঞ্জ বন্দরের জাহাজের পাকিং চার্জ প্রতি মেট্রিক টনে ৩০ টাকা ছাড়া এসব পণ্য থেকে আর কোন মাসুল পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার।
চাল পরিবহনে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আনবিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের স্থানীয় ঠিকাদার বিসিসি এর পরিচালক জিয়াউদ্দিন খন্দকার জানান, ভারতীয় খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে কলকাতা থেকে রওয়ানা হওয়া জাহাজটি মঙ্গলবার বিকালে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করেছে। বুধবার সকাল থেকে সড়কপথে কাভার্ড ভ্যানে করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এসব চাল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পাঠানো হবে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া চেকপোস্ট পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে ভারতীয় চাল পরিবহনকারী কাভার্ড ভ্যানগুলোর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিদর্শক(পরিবহন) মোঃ শাহ আলম জানান এমভি অভি নামের ভারতীয় জাহাজে করে ২২৭২.৪৮৫ মেট্রিক টন চাল আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙ্গর করেছে। বুধবার সকাল থেকে এসব চাল কাভার্ডভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গতঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আখাউড়ার গৌহাটি ও মেঘালয়ের শিলং হয়ে ত্রিপুরায় যেতে ১৫ শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। তাই ভারতের অনুরোধে মানবিক কারণে কোন শুল্ক ছাড়াই নতুন করে ৩৫ হাজার টন চাল বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মানবিক বিবেচনায় ভারতকে বিনা মাশুলে পণ্য পরিবহন বা ট্রান্সশিপমেন্ট দেয়ার ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগে বাংলাদেশের নদীপথ ব্যবহার করে ২০১২ সালে ত্রিপুরায় পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারত যাবতীয় ভারি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছিল এই আশুগঞ্জ দিয়ে।
ইত্তেফাক/এএন
