স্বামীকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা শরণখোলায়, ঘাতক স্ত্রী আটক

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩৬

শরণখোলার দক্ষিণ বাধাল গ্রামে শনিবার ভোর রাতে স্বামীকে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে তার স্ত্রী। গলাকাটা গুরুতর জখম স্বামী রুমান মৃধাকে (৩০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ স্ত্রী কুমকুম আক্তার সিমুকে (২৩) গ্রেফতার করেছে।

আহত রুমানের মা রেনু বেগম জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার সময় ঘরের মধ্যে গোঙানির শব্দ শুনতে পান তিনি। বউয়ের কাছে কিসের শব্দ জানতে চাইলে বউ বলে বিড়ালে ঝগড়া বাঁধিয়েছে। তখন ছেলের পিতাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে রুমের দরোজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন রুমানকে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ঘরের মেঝে ও বিছানা রক্তে ভেজা।

এ সময় লেপ সরিয়ে ছেলেকে গলাকাটা অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ ফাঁকে ঘাতক স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমু ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়।

ভোর ৫টার দিকে পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার কেয়ারবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ ও জনতার হাতে ধরা পড়ে যায় সিমু।

ঘটনার স্বীকার আহত রুমান যশোরে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। আট মাস আগে মোবাইলে প্রেমের মাধ্যমে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল গ্রামের শেখ হারুন অর রশিদের মেয়ে কুমকুম আক্তার শিমুকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

শরণখোলা থানায় বসে স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমু অভিযোগ করে, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী যৌতুৃকের জন্য তাকে মারধর করতো। নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীকে জবাই করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সে। 

আরও পড়ুনঃ প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার সরকার জানান, ‘এ ঘটনায় ছেলের মা রেনু বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমুকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’

ইত্তেফাক/নূহু