রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চরে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত দুই দিনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক বাড়ী। হুমকির মুখে পড়েছে ৮ শতাধিক বাড়ীঘর। এতে নদী ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার চর আষাডিয়াদহ ইউনিয়নে হুমান্তনগর থেকে চর বয়ারমারী ঢ্যাংগা পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে পদ্মা নদীর পাড় ভাঙছে। চর আষাডিয়াদহ ইউনিয়নের হুমন্ত নগর, চর নওশেরা, ডাকরি পাড়া, খাসমহল আমতলা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিলেও চর বয়ারমারী নিচু পাড়া, হঠাত্ পাড়া, আমিন পাড়া ও ঢ্যাংগা পাড়ায় পদ্মা নদীর পাড় বেশি ভাঙ্গছে। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ফুট করে ভাঙতে থাকায় তীরবর্তী গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়ীঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
চর আষাডিয়াদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ রানা উজ্জল বলেন, নদী ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজন দারিদ্র। এই সব লোকজন অর্থ অভাবে বাড়ী ঘর সরাতে পারছে না। অধিকাংশই লোকজন শুধু কিছু আসবাবপত্র ও গরু ছাগল সরিয়ে নিতে পারলেও বাড়ীঘর সম্পূর্ণভাবে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে চর আষাডিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা প্রতিদিনি বাড়ছে। তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া হচ্ছে। এদিকে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে তীব্র স্রোতের কারণে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব এলাকায় কোন ধরণের সাহায্য পাচ্ছেন না বলে ভাঙনকবলিত লোকজন অভিযোগ করেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, গত শুক্রবার পদ্মা নদীতে ১৮ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পদ্মা ব্যারেজের বিরুপ প্রভাব প্রথমে পড়ে গোদাগাড়ী চর বয়ারমারি গ্রামে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনির হোসেন বলেন, গত শুক্রবার তিনিসহ উপজেলা প্রশাসনের একটি দল চর আষাড়িয়াদহ ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা পরির্দশন করেছেন। গত বৃহস্পপতিবার চর বয়ারমারি গ্রামের ৬৮ জন ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের জরুরি সাহায্যে ২ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল করে দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা ও ভাঙন, বন্যা, চিত্র, প্রতিবেদন, আকারে জেলা প্রশাসকসহ সংশিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। জরুরি সাহায্যের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
