ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার ঘাতককে গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মোড়ে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে। ঘাতককে গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ওদিকে ওবায়দুলকে না পেয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মিরাটঙ্গি গ্রাম থেকে তার বোন খাদিজা বেগম (৩৫) ও ভগ্নিপতি খাদেমুল ইসলামকে (৪৫) সোমবার রাতে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে কাকরাইল মোড়ে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ চলাকালে আগামীকালের মধ্যে ঘাতককে গ্রেফতার করা না হলে ১ সেম্পম্বর সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। দুপুর তিনটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের ফলে মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল শান্তিনগর, মগবাজার ও বিজয়নগর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
২৪ আগস্ট দুপুরে পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বেরিয়ে রিশা কাকরাইল ফুটওভার ব্রিজের ওপর ওঠে। ব্রিজের মাঝামাঝি যেতেই এক দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রিশার চিত্কারে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ছুটে আসে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসাপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে রিশা মারা যায়। ঘটনার দিন রাতে রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রমনা মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ওবায়দুল নামে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাকে এখনো ধরতে পারেনি।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৬ মাস আগে মায়ের সঙ্গে ওই ছাত্রী ইস্টার্ন মল্লিকার শপিং কমপেক্সের বৈশাখী টেইলার্সে যায়। সেখানে একটি ড্রেস সেলাই করতে দেয়। দোকানের রিসিটে বাসার ঠিকানা ও তার মায়ের মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। সেই রিসিট থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে ওই টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল ফোনে উত্ত্যক্ত করত রিশাকে। পরে ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দিলে ওই যুবক স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রিশাকে ছুরিকাঘাত করে ওবায়দুল— এমনই ধারণা পরিবারের।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই ওবায়দুল পলাতক রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও। বৈশাখী টেইলার্স মালিকের দাবি অনুযায়ী, ওবায়দুল আড়াই মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপর কোথাও চাকরি বা অন্য কিছু করত কি না তা জানা যায়নি। মোবাইল ট্র্যাকিং এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই তাকে ধরতে পারা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিহতের মামা কামাল উদ্দিন মুন্না জানান, গতকাল স্কুলছাত্রী রিশার লাশ ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে জানাজার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে রিশার সহপাঠী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কান্নায় স্কুলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ আসর জানাজা শেষে তার লাশ নেওয়া হয় বংশাল আলাউদ্দিন রোডের ঘাট সাহেব মসজিদে। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো রিশার লাশ দেখতে ভিড় করে। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
