মদনে দুই নারী এসিড দগ্ধ, মামলা হয়নি সাতদিনেও

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৫:১৩
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় দুই নারী এসিড দগ্ধ হওয়ার সাত দিনেও থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই এসিড নাটক সাজানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
 
এলাকাবাসী জানায়, ২৪ আগস্ট রাতে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কাইটাইল বাগবাড়ী গ্রামের জানু মিয়ার বসত ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় নিয়াশা ও মনোয়ারা নামে দুই নারী এসিড দগ্ধ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এ গ্রামের আনছু মিয়ার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে এসিডদগ্ধ পরিবারের জানু মিয়ার ছেলে হৃদয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই মেয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ রয়েল পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে গিয়ে ছেলে-মেয়ে নাবালক থাকায় বিবাহ বন্ধ করে দেয়। এবং সাবালক হওয়ার পর বিবাহের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে বিষয়টির মীমাংসা করে দেন। এ ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে জানু মিয়ার ছেলে একই গ্রামের আলী আকবরের মেয়ে সোনিয়াকে বিয়ে করে। এর পর আনছু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে জানু মিয়ার পরিবারের বিরোধ তুঙ্গে উঠে। প্রেমিকার বাবা আনছু মিয়া নেত্রকোণা কোর্টে নিয়াশা, তার স্বামী ও ছেলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা করেন।
 
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান জানান, মূলত মামলা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি নিয়াশা ও তার পরিবারের লোকজন সাজিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এ ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
 
এদিকে এসিড দগ্ধ নিয়াশার স্বামী জানু মিয়ার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ১০ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করি। বারবার থানায় মামলা রজু করতে গেলে পুলিশ মীমাংসার কথা বলছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ