জঙ্গিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
আর এ তালিকায় আছে ভাই-বোন-ভগ্নিপতি মিলিয়ে একই পরিবারের ৬ সদস্য। তাদের একজন আবার ‘মোশরেক’ বা হিজবুতের সামরিক ক্যাডার। এই ৬ জনসহ নতুন-পুরাতন ১১ জঙ্গির তালিকা দিয়ে দ্বিতীয় দফায় একটি পোস্টার ছেপেছে যশোরের পুলিশ। এরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি এসপির।
এর আগে জুলাইয়ে পুলিশ ৫ জন জঙ্গির সদস্য দিয়ে পোস্টার ছাপায়। নতুন পোস্টারে পুরাতন তালিকার দুই জনের নাম রয়েছে। বাকি ৩ জনের একজন রাব্বী নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন। হিযবুত তাহরিরের একজন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আরেকজন অভিমান করে ‘ঘর ছেড়ে’ যাওয়া মুন্না বাড়ি ফিরে এসেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর হিজবুত তাহরিরের আঞ্চলিক কমান্ডার তানজিব আহম্মেদ ওরফে আশরাফুলকে (২২) যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় থেকে পুলিশ হিজবুতের ‘রুট’ খুঁজতে থাকে।
অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে- এই তানজিব হিজবুতের সামরিক ক্যাডার ‘মোশরেক’ এবং তার পরিবারের ২ ভাই, ২ বোন ও ২ ভগ্নিপতিও হিজবুতের সঙ্গে যুক্ত। এদের বাবা মিশরে থাকেন এবং তিনি আইএসের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। এই পরিবারের সদস্যসহ হিজবুতের অন্য সদস্যদের যশোরে এসে প্রশিক্ষণ দিতেন। এরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কদমতলী গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ঢাকার প্রিমিয়ার স্কুলের প্রচ্ছদ ডিজাইনার মুসাব্বির আহমেদ ওরফে প্রকাশ ওরফে তন্ময় (৩০), জামালপুর জেলার (ঢাকার উত্তরায় বসবাসকারী) হারেজ আলী (২৭), তানজীবের ভগ্নিপতি ঢাকার কল্যাণপুরের ইহসান খানের ছেলে শাকির আহম্মেদ (৩০) ও আরেক ভগ্নিপতি জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. গিয়াসউদ্দীনের ছেলে নাজমুল হাসান (৩০)। তানজিবের অপর ভাই তানজির আহমেদ (১৯), দুই বোন মোছা. মাছুমা আক্তার (২৭) ও মোছা. মোছা. মাকছুদা খাতুনও (২৮) হিজবুত সদস্য।
এদের বাইরে পুলিশের নতুন পোস্টারে জঙ্গি হিসেবে নতুনভাবে আরও যুক্ত হয়েছেন পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার সাতকাছেমিয়া গ্রামের মো. মঈনুল ইসলামের ছেলে (বর্তমান ঠিকানা যশোরের চাঁচড়ার বেড়বাড়ি) মহি উদ্দীন (৩০)। এছাড়া আগের পোস্টারেও ছাপা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের হাসান আলী গাজীর ছেলে জিএম নাজিম উদ্দিন ওরফে নকশা নাজিম (৪২) এবং একই জেলার শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের আওরঙ্গজেবের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে হোসাইন ওরফে জীমের (১৫) ছবিও নতুন করে ছাপা হয়েছে। শেষের এই দুজনের ব্যাপারে থানায় জিডি করছেন অভিভাবকরা। পোস্টারে ছাপা অপর ৯ জনের বিরুদ্ধেই যশোরের কোতোয়ালি ও অভয়নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক বা একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রেস বিফ্রিং-এ এসপি বলেন, জঙ্গি সংশ্লিষ্ট পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে তানজিব, তানজির ও মাছুমাকে পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
