গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০২:০১
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, দুর্গাপুর, মোহনগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকার কর্মস্থলে ফেরা অধিকাংশ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মোহনগঞ্জ, জারিয়া, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম যেতে আসতে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে ট্রেন পরিবর্তন করতে হয়। ফলে ট্রেনের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে এ স্টেশনে। এসব যাত্রীদের বসার ৩৪টি বেঞ্চ থাকলেও আজ অজ্ঞাত কারণে শূন্য।
 
প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগারটি ধারি(বাঁশের তৈরি মাদুর) রেখে ও তালা মেরে থাকছে সর্বক্ষণ বন্ধ। অপর বিশ্রামাগারটিতে যাত্রীদের টয়লেটে নেই পানি। বাধ্য হয়ে রেললাইনের স্লিপার ও গাছতলায় বসে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবত্ রেলওয়ে জংশনটিকে রি-মডেল স্টেশনের দাবিতে আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। চারটি রেলপথের সংযোগস্থল। প্রতিদিন ২৮টি ট্রেনে হাজারো যাত্রীর উঠা-নামা। কিন্তু এ জংশনে যাত্রীদের হয়রানির শেষ নেই।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক শ্রেণির ঠিকাদার ও রেলওয়ে কর্মকর্তা প্রতিবছর সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের জন্যই এ স্টেশনটি রি-মডেল স্টেশনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই এ চক্রটি সংস্কারের নামে নামমাত্র রং লাগিয়ে আর দু-এক বস্তার সিমেন্টের কাজ করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং সাধারণ যাত্রীদের বিশ্রামাগার লেখা আছে। স্টেশনে যাত্রীদের বিশ্রামাগার সংস্কার করা হলেও পানির সংযোগ নেই। বসার আসবাবপত্র নেই। ২৪ ঘণ্টা ঝুলছে তালা।
 
স্টেশন মাস্টার মির্জা মো. শামছুল আলম জানান, টিসি ছয়জনের স্থলে একজন, পয়েসম্যান নয়জনের স্থলে চারজন কর্মরত এবং বুকিং সহকারী সাতজনের স্থলে তিনজন কর্মরত রয়েছে। শূন্য রয়েছে একজন পোর্টার, মালবাবু, দু’জন টিআরসি, সুইপার দু’জন ও একজন ক্যাবিন মাস্টারের পদ।
 
গৌরীপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের বুকিং করার মালামাল প্লাটফরমে যত্রতত্র পরে আছে। এগুলো বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে শুকাচ্ছে। মাল সংরক্ষণের গুদামটি ব্যবহার অনুপযোগী। প্রায়ই হচ্ছে চুরি। মাল রক্ষা করতে গিয়ে সম্প্রতি এক লেবার ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন।
 
এদিকে স্টেশন মাস্টার মির্জা মো. শামছুল আলম জানান, স্টেশনটি রি-মডেল হয়ে গেলেই যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে যাবে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন